বিশ্ব

দুবাই থেকে ব্রিটিশ নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে বিশেষ ফ্লাইট চালু করছে যুক্তরাজ্য

প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬ ০৩:২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। আগামী সপ্তাহের শুরুতে দুবাই থেকে একটি চার্টার ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, দুবাই থেকে পরিচালিত এই ফ্লাইটটি সরকারিভাবে চার্টার করা হবে এবং এতে ব্রিটিশ নাগরিকদের পাশাপাশি তাদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তানরাও ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। তবে যাত্রীদের বৈধ ভ্রমণ নথি থাকতে হবে এবং ব্রিটিশ নন এমন নির্ভরশীল সদস্যদের বৈধ ভিসা থাকতে হবে।

এর আগে ওমানের মাসকাট থেকে ব্রিটিশ নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে দুটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে। প্রথম ফ্লাইটটি স্ট্যানস্টেড বিমানবন্দরে এবং দ্বিতীয়টি গ্যাটউইক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আরও একটি ফ্লাইট রোববার মাসকাট থেকে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের মধ্যে যাদের জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন বা যারা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে অঞ্চলটিতে থাকা এক লাখ ৬০ হাজারের বেশি ব্রিটিশ নাগরিক সরকারের কাছে তাদের উপস্থিতি নিবন্ধন করেছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ইরানের পাল্টা হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলার একটি বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেছে বলে বিবিসি জানিয়েছে। বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি শিল্পাঞ্চল থেকে ধারণ করা ওই ভিডিওতে টার্মিনালের কাছে বিস্ফোরণের দৃশ্য ধরা পড়ে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার।

এদিকে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার একটি আকাশ প্রতিরক্ষা অভিযানের সময় ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে।

সংঘাতের মধ্যে আটকে পড়া অনেক ব্রিটিশ নাগরিক তাদের আতঙ্কের অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন। স্কটল্যান্ডের ভিক্টোরিয়া ক্যামেরন জানান, ইরানের প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় তিনি দুবাইয়ের একটি হোটেলে ছিলেন। হোটেল কর্তৃপক্ষ সবাইকে দ্রুত আশ্রয় নিতে বললে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

অন্যদিকে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের স্টুয়ার্ট কারসন জানান, দুবাইয়ের একটি হোটেলে অবস্থান করার সময় কাছাকাছি হামলার কারণে পুরো ভবন কেঁপে ওঠে। পরে একাধিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় কয়েকদিন পর তিনি দেশে ফিরতে সক্ষম হন।

যুক্তরাজ্য সরকার বলেছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন হলে আরও বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন