বিশ্ব

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশ

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬ ১৪:১৭

গ্রাফিক্স : বায়ান্ননিউজ২৪

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে।

সাম্প্রতিক লেনদেনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ব্রেন্ট নর্থ সি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৩ ডলার ছাড়িয়েছে, যা গত প্রায় দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও দ্রুত বাড়তে দেখা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং এর জবাবে ইরানের পাল্টা হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলও ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। একই সঙ্গে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের বড় অংশও এই পথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই রুটে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

এদিকে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ইরাকের কিছু তেলক্ষেত্রেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে অন্তত একটি বিদেশি কোম্পানি পরিচালিত তেলক্ষেত্রে উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। একই সঙ্গে উৎপাদন ও সংরক্ষণ সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু দেশ তেল উৎপাদন কমানোর কথাও বিবেচনা করছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং জ্বালানির দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ অবস্থানে থাকে, তাহলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি অনেক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতা সরাসরি পরিবহন, শিল্প উৎপাদন এবং ভোক্তা পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে, যার প্রভাব বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের ওপর পড়বে।

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন