তেহরানে বিমান হামলা চলছে অনবরত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এক সপ্তাহে গড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার মধ্যে ইরানের রাজধানী তেহরানে কয়েক ঘণ্টা পরপর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছে “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ” দাবি করেছেন।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তেহরানের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত রাত এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল। তারা বলেন, কয়েক ঘণ্টা পরপর হামলা হয়েছে এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের বিস্ফোরণ শোনা গেছে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, নতুন দফা হামলায় প্রায় ৫০টি যুদ্ধবিমান অংশ নেয়। এসব হামলায় তেহরানে একটি সামরিক কমান্ড বাংকার ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা নয়, কেবল “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ”ই গ্রহণযোগ্য। তিনি আরও বলেছেন, ইরান আত্মসমর্পণ করলে দেশটিকে এমন একজন নতুন নেতা বেছে নিতে হবে যিনি তার প্রশাসনের কাছে গ্রহণযোগ্য হবেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, রাশিয়া ইরানকে সামরিক তথ্য সহায়তা দিচ্ছে—এমন অভিযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক রয়েছে। তিনি জানান, ওয়াশিংটন এ বিষয়ে নজর রাখছে এবং প্রয়োজন হলে কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, চলমান অভিযানে এখন পর্যন্ত ইরানে তিন হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্রপথে অন্তত ৪৩টি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে বিভিন্ন উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হামলায় কিছু বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে স্কুল, একটি হাসপাতাল এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া হামলায় এখন পর্যন্ত দেশটিতে এক হাজার ৩৩২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
এদিকে সংঘাত লেবাননেও ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি হামলায় সেখানে এখন পর্যন্ত ২১৭ জন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। রাজধানী বৈরুতে বড় বড় বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ার দৃশ্যও দেখা গেছে।
পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠায় বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, ওমানে আটকে থাকা তাদের নাগরিকদের ফেরাতে দ্বিতীয় একটি বিশেষ ফ্লাইট ইতোমধ্যে ছেড়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাত এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলছে এবং এটি আরও বড় আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন