প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৬ ০৩:০১
দুই দিনের সফরে ঢাকায় এসে বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী সেক্রেটারি পল কাপুর। সফরের সময় দুই দেশের সম্পর্ক, বাণিজ্য সহযোগিতা, অবৈধ অভিবাসন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে দিল্লি থেকে ঢাকায় পৌঁছানোর পর বুধবার সকালে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান। সেখানে তিনি প্রথমে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে এবং পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন।
নির্বাচন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ
বৈঠকে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন পল কাপুর। তিনি নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর বলে উল্লেখ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও নির্বাচনের পরিবেশ ও অংশগ্রহণ নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করা হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রথম নীতির কথা তুলে ধরা
বৈঠকে বর্তমান সরকারের বাংলাদেশ প্রথম নীতির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করছে বাংলাদেশ।
পল কাপুরও দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অবৈধ অভিবাসন নিয়ে আলোচনা
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কাগজপত্রবিহীন বাংলাদেশিদের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। মার্কিন প্রশাসন ইতোমধ্যে কয়েক হাজার অবৈধ বাংলাদেশির একটি তালিকা করেছে বলে জানা গেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব বাংলাদেশিকে সম্মানজনকভাবে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রসঙ্গ
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। উভয় দেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে প্রায় সাড়ে আট বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক অংশীদার।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যে দুইজন বাংলাদেশি নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন।
তিনি দ্রুত সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে এই সংকট সমাধানের আহ্বান জানান।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সহায়তা চাওয়া
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কামনা করেছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ এবং সংকটের স্থায়ী সমাধানে আরও আন্তর্জাতিক উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে।
জ্বালানি সহায়তা প্রসঙ্গও আলোচনায়
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়ও তুলে ধরেছে।
সরকার আশা করছে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন