বাংলাদেশ

ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশের বিবৃতি নিয়ে সমালোচনার ঝড়

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬ ২২:৫০

ছবি: শনিবার আমেরিকা-ইজরায়েলের আকস্মিক আক্রমণে জ্বলছে ইরান

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা এবং সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহত হওয়ার ঘটনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ শোক ও নিন্দা জানালেও বাংলাদেশের বিবৃতি ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার যে বিবৃতি দিয়েছে, তাতে ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দা জানানো হলেও যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

বিবৃতিতে আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শন ও কূটনৈতিক সমাধানে ফেরার আহ্বান জানানো হয়। তবে ইরানে প্রথম দফার হামলা এবং তেহরানে বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় সরাসরি কোনো নিন্দা না থাকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

বিবিসি বাংলা  জানিয়েছে, সাবেক কূটনীতিক ও বিশ্লেষকদের একটি অংশ সরকারের অবস্থানকে ‘একপেশে’ বলে মন্তব্য করেছেন। সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ প্রশ্ন তুলেছেন, ইরান আগে আক্রান্ত হওয়ার পর পাল্টা জবাব দিয়েছে—এ বাস্তবতায় বাংলাদেশের বিবৃতিতে কেন আগ্রাসনের সূচনাকারীদের নাম নেই। তার ভাষায়, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী দেশের অবস্থান হওয়া উচিত আগ্রাসনবিরোধী ও ন্যায়সংগত।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাহাব এনাম খানও মনে করেন, এ ধরনের সংকটে ভারসাম্যপূর্ণ ভাষা ব্যবহার জরুরি ছিল। তার মতে, উভয় পক্ষের হামলার নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে সুস্পষ্ট অবস্থান নেওয়া উচিত ছিল সরকারের।

সমালোচকদের অভিযোগ, সরকারের বিবৃতিতে ইরানের পাল্টা হামলার প্রসঙ্গ জোর দিয়ে উল্লেখ করা হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রাথমিক হামলার প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে পররাষ্ট্রনীতিতে স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতার প্রশ্ন উঠছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, আন্তর্জাতিক চাপের কারণে কি সরকার এমন ভাষা ব্যবহার করেছে।

এদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ঢাকায় বিক্ষোভ করেছে। তারা সরকারের অবস্থানকে দুর্বল ও অস্পষ্ট বলে আখ্যা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি থাকায় সরকার কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে। তবে সমালোচকদের দাবি, ভারসাম্য রক্ষা মানে কোনো পক্ষের নাম এড়িয়ে যাওয়া নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতির ভিত্তিতে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ সমালোচনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। তবে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, চলমান সংকট আরও গভীর হলে বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে আরও পরিষ্কার অবস্থান নিতে হতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন