বিশ্ব

ইরানে হামলা শুরুর পর যা যা ঘটেছে

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬ ০২:৪৯

প্রথম আঘাত: তেহরানসহ একাধিক শহরে হামলা

শনিবার ভোরে ইসরায়েল ইরানের রাজধানী তেহরান ও আরও কয়েকটি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালায়। লক্ষ্য ছিল সামরিক ঘাঁটি, প্রতিরক্ষা স্থাপনা এবং পারমাণবিক সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো।

এরপর যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে। হামলার লক্ষ্য হিসেবে সামরিক কমান্ড স্থাপনা ও কৌশলগত অবকাঠামোর কথা বলা হয়।

ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কিছু বেসামরিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের হতাহতের খবর

হামলার শুরুর দিকেই ইরানের প্রতিরক্ষা কাঠামোয় বড় ধাক্কার খবর আসে। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী–এর কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানানো হয়।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্বীকার করেন, কয়েকজন কমান্ডারকে তারা হারিয়ে থাকতে পারেন। তবে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে ঘিরে ছড়ানো মৃত্যুর গুজব অস্বীকার করে তেহরান জানায়, তিনি জীবিত আছেন।

ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান সরাসরি পাল্টা জবাব দেয়। ইসরায়েলের বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। তেলআবিব অঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোও হামলার আওতায় আসে।

কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটি, বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের খবর পাওয়া যায়। কয়েকটি দেশে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়।

উপসাগরীয় দেশগুলোতে বিস্ফোরণ ও সতর্কতা

বাহরাইন, কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিস্ফোরণের খবর আসে। কিছু ক্ষেত্রে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করা হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে একজন নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। কয়েকটি দেশে সামরিক সতর্কতা জারি করা হয় এবং কিছু কূটনৈতিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা

সংঘাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ আসে যখন হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপের ঘোষণা দেয় ইরান।

বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল পরিবহন এই রুট দিয়ে হয়। ফলে জাহাজ চলাচল কমে গেলে বা বন্ধ হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

কয়েকটি জাহাজ বিকল্প রুট নেওয়া শুরু করেছে বলে জানা যায়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বেসামরিক হতাহত ও অবকাঠামো ক্ষতি

প্রথম দিনের হামলায় ইরানে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু এবং কয়েকশ আহত হওয়ার খবর বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশিত হয়।

কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে। তেহরানের কিছু অংশে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অব্যাহত পাল্টাপাল্টি হামলা

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। উভয় পক্ষই আরও কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং সংঘাত আঞ্চলিক পরিসরে বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি এখনো কাটেনি।

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন