বিমান হামলার জবাব
প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ০২:৪১
ছবি: রয়টার্স
পাকিস্তান–আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা নতুন করে তীব্র রূপ নিয়েছে। গত সপ্তাহে পাক সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের পূর্ব প্রান্তে বিমান হামলা চালানোর পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আফগান নিরাপত্তা বাহিনী সাড়া দিয়ে সীমান্তের বিভিন্ন পাকিস্তানি সামরিক স্থাপনা ও ফাঁড়িতে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আফগান প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর “অপরাধমূলক আগ্রাসন” এবং পাল্টা হামলার জবাবে তারা ডুরান্ড লাইনের বরাবর নিজেদের অবস্থান ও পোস্টগুলিতে ব্যাপক প্রতিরোধ ব্যবস্থা চালু করেছে। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র অনেকে স্থানে “লেজার ইউনিট” ব্যবহার করে রাতের অন্ধকারে অপারেশন পরিচালনার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আফগান বাহিনী প্রথমে সীমান্ত বরাবর “বিনা উস্কানিত আগুন” ছুঁড়ে এবং পাকিস্তানি সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো শুরু করলে তাদের বাহিনী তা প্রতিহত করেছে। তথ্য মন্ত্রণালয় এ আক্রমণের পর “ফৌজদারি ও কার্যকরী” জবাব দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এই উত্তেজনার পেছনে মূল নেপথ্য স্পর্শকাতর ঘটনার মধ্যে অন্যতম ছিল পাকিস্তানের বিমান হামলা, যা ২২ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের নাঙ্গরহার ও পাক্তিকা প্রভেদে চালানো হয় এবং পাকিস্তান বলেছে এটি সীমান্ত অঞ্চলে জঙ্গি শিবির ও আস্তানাগুলিকে নিশানা করেছে। আফগান কর্তৃপক্ষ ও জাতিসংঘের অনুসন্ধানে ওই হামলায় কমপক্ষে ১৩ সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়া ও বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।
এই সীমান্ত সংঘর্ষ শুধুমাত্র সামরিক স্থাপনা ও ফাঁড়িগুলিতে সীমাবদ্ধ নেই। পাকিস্তান ও আফগানিস্তান উভয়েই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে এসেছে যে, আক্রমণের নেপথ্যে উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড ও মধ্যস্থতাকারী জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর সহায়তা রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, দুই দেশের সম্পর্কের ক্রমাগত টানাপোড়েনের ফলে সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে দুই পক্ষই কূটনৈতিকভাবে তৈরি উত্তেজনা কমানোর কোনও বড় উদ্যোগ ঘোষণা করেনি এবং সীমান্ত সংঘর্ষের পরামর্শপ্রাপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন