‘রাজসাক্ষী বাণিজ্যে’ তোলপাড়
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ০৫:২৬
চিফ প্রসিকিউটর পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে প্রসিকিউশন টিমের ভেতর থেকেই উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট বিএম সুলতান মাহমুদ প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন, কিছু মামলায় টাকার বিনিময়ে আসামিকে ‘রাজসাক্ষী’ বানানো হয়েছে। তার দাবি, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে রাজসাক্ষী করার পেছনে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী কাজ করেছে। একইভাবে আশুলিয়ার একটি মামলার আসামিকেও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রসিকিউশনের ভেতরে একটি সিন্ডিকেট তদন্ত সংস্থায় প্রভাব খাটিয়ে কিছু আসামিকে সুবিধা দিয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজনকে আসামির তালিকা থেকে বাদ রাখা হয়েছে। এমনকি ভিডিও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কিছু ব্যক্তিকে সাক্ষী বানানোর অভিযোগও ওঠে। এসব ঘটনায় তিনি বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
অন্যদিকে, বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এগুলো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার দাবি, ট্রাইব্যুনালে সব প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে এবং আদালতে প্রমাণের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত হয়েছে। ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে নতুন চিফ প্রসিকিউটর নিয়োগের পর প্রসিকিউশন টিমের ভেতরে বিভক্তির গুঞ্জন ছড়িয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়ছে বলে অনেকে ইঙ্গিত দিচ্ছেন। যদিও প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জানিয়েছেন, নতুন নেতৃত্বকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে এবং বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, তাজুল ইসলামের সময়েই ট্রাইব্যুনাল বেশ কয়েকটি আলোচিত মামলার রায় দেয়। তবে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই চিফ প্রসিকিউটর পরিবর্তন এবং তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, নতুন নেতৃত্ব এই বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে বিচার প্রক্রিয়ায় আস্থা ফিরিয়ে আনতে কতটা সক্ষম হন।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন