শিশু সুরক্ষা জোরদারে আইন সংশোধনের উদ্যোগ, নজরে এআই চ্যাটবটও
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৯:৩৭
ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদারে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে যুক্তরাজ্য সরকার। ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার আদলে কিশোর-কিশোরীদের অনলাইন ঝুঁকি কমাতে বয়সভিত্তিক সীমাবদ্ধতা আরোপের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে একটি পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কয়েক মাসের মধ্যেই প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের পথে হাঁটতে পারে লন্ডন। অস্ট্রেলিয়া সম্প্রতি ১৬ বছরের নিচে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়ার পর ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ একই পথে এগোচ্ছে।
২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যে অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট পাস হলেও সরকার মনে করছে, বর্তমান আইনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাঁক রয়ে গেছে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত এআই চ্যাটবট বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কথোপকথনমূলক প্ল্যাটফর্মগুলো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের আওতায় নেই।
প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল জানিয়েছেন, শিশু ও কিশোরদের ওপর এআই প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন। সম্প্রতি কিছু এআই চ্যাটবট ব্যবহারকারীর সম্মতি ছাড়া আপত্তিকর বা যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ছবি তৈরির অভিযোগের পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। জুনের আগেই এ বিষয়ে প্রস্তাবনা প্রকাশের কথা জানিয়েছে সরকার।
সরকার যে পদক্ষেপগুলো বিবেচনায় রেখেছে, তার মধ্যে রয়েছে—
কোনো শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনলাইন তথ্য সংরক্ষণের নির্দেশ
গেমিং কনসোলে অপরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত করা
নগ্ন ছবি আদান-প্রদান রোধে কঠোর ব্যবস্থা
বয়স যাচাই প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা
অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ
এগুলো বিদ্যমান শিশু সুরক্ষা ও অপরাধসংক্রান্ত আইনের সংশোধনী আকারে সংসদে তোলা হতে পারে।
তবে প্রস্তাবিত পদক্ষেপ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। অনেক অভিভাবক বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানালেও শিশু অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দিলে কিশোররা আরও অনিয়ন্ত্রিত বা অজানা প্ল্যাটফর্মে চলে যেতে পারে। এতে নজরদারি আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম’ শব্দটির সুস্পষ্ট আইনগত সংজ্ঞা নির্ধারণ না করলে বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি বয়স যাচাই পদ্ধতি জোরদার করলে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।
এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও প্রযুক্তি নীতির বিষয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করতে পারে। কিছু পর্নোগ্রাফি সাইট ইতোমধ্যে কঠোর বয়স যাচাইয়ের কারণে যুক্তরাজ্যের ব্যবহারকারীদের জন্য সেবা বন্ধ করেছে। তবে ভিপিএন ব্যবহার করে এসব সীমাবদ্ধতা এড়ানোর পথও খোলা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাজ্য ডিজিটাল পরিবেশে শিশুদের সুরক্ষা জোরদারে কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত, আইনি ও সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা করা হবে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
বায়ান্ননিউজ২৪/আবির
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন