টিআইবির রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৮:৩৭
টিআইবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের ঘোষিত মোট দায় বা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) তাদের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে।
সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি। সেখানে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দাখিল করা হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে দায়–ঋণের চিত্র উপস্থাপন করা হয়।
টিআইবির তথ্য অনুযায়ী, নবম জাতীয় সংসদে এমপিদের মোট দায় বা ঋণ ছিল ১ হাজার ১০৭ কোটি টাকা। দশম সংসদে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৬২৪ কোটি টাকা, একাদশ সংসদে ৬ হাজার ৪২৩ কোটি এবং দ্বাদশ সংসদে ১০ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা। সর্বশেষ ত্রয়োদশ সংসদে এই অঙ্ক আরও বেড়ে ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
তবে শতাংশের হিসেবে দায়গ্রস্ত সদস্যের হার কিছুটা কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। নবম সংসদে দায়গ্রস্ত এমপির হার ছিল ৫৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ, দশম সংসদে ৫৬ দশমিক ০১ শতাংশ, একাদশে ৫১ দশমিক ৩০ শতাংশ, দ্বাদশে ৫২ শতাংশ এবং ত্রয়োদশ সংসদে তা নেমে এসেছে ৪৯ দশমিক ৮৩ শতাংশে।
দলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে ৬২ দশমিক ০২ শতাংশের দায় বা ঋণ রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে এই হার ১৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে ৬৭ দশমিক ৩৪ শতাংশের বার্ষিক আয় ১০ লাখ টাকার বেশি। এর মধ্যে ৪৮ জন সদস্যের বার্ষিক আয় কোটি টাকারও বেশি।
টিআইবির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রায় ৯৯ শতাংশ প্রার্থী কোনো না কোনোভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। এর মধ্যে মুদ্রণকারীর তথ্যবিহীন প্রচারণা সামগ্রী ব্যবহার, যানবাহনসহ শোভাযাত্রা, পাঁচজনের বেশি সমর্থক নিয়ে মনোনয়ন জমা, প্রতিপক্ষের পোস্টার-ব্যানার অপসারণ বা নষ্ট করার মতো অনিয়ম চিহ্নিত হয়েছে।
আচরণবিধির ৫৮টি বিষয় বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি জানিয়েছে, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী—সব পক্ষের মধ্যেই বিভিন্ন মাত্রায় বিধি লঙ্ঘনের প্রবণতা দেখা গেছে।
টিআইবির মতে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হলে হলফনামার তথ্য যাচাই এবং আচরণবিধি বাস্তবায়নে আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন