আওয়ামী লীগ না থাকায় ভোটের অঙ্কে বড় প্রভাব
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২২:১৯
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের হার প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৯৯ আসনে প্রদত্ত মোট ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩ ভোটের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পেয়েছে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট।
এবারের নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। তবে কার্যক্রম স্থগিত থাকায় দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ নির্বাচনে ছিল না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি ভোটের সামগ্রিক চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। একদিকে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল, অন্যদিকে আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যগত ভোটব্যাংকের একটি অংশ বিভিন্ন দলে ছড়িয়ে পড়ে।
বিএনপি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ২৯০ আসনে প্রার্থী দেয় এবং ঘোষিত ফলাফলে ২০৯ আসনে জয় পায়। চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে ওই দুটি আসনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। ভোটের শতকরা হিসেবে বিএনপি প্রায় অর্ধেক ভোট নিজেদের দখলে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ২২৭ আসনে নির্বাচন করে এবং ৬৮ আসনে জয়ী হয়। তাদের মোট ভোটের হার ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ভোটের অঙ্কে বিএনপির পর দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে দলটি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩২ আসনে প্রার্থী দিয়ে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৭ আসনে প্রার্থী দিয়ে ২ দশমিক ৭০ শতাংশ ভোট পায় এবং একটি আসনে জয়ী হয়। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২ দশমিক ০৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সম্মিলিতভাবে পেয়েছেন ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট। জাতীয় পার্টি ১৯৯ আসনে নির্বাচন করে মাত্র শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ ভোট পেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে পড়ে।
এক শতাংশের নিচে ভোট পেয়েছে কমিউনিস্ট পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, গণফোরাম, নাগরিক ঐক্যসহ বেশ কয়েকটি ছোট দল।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সম্মিলিতভাবে পেয়েছে ৫১ দশমিক ০৯ শতাংশ ভোট। তবে জোটের শরিক দলগুলোর বেশিরভাগই এক শতাংশের কোটা অতিক্রম করতে পারেনি। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট পেয়েছে ৩৮ দশমিক ৫২ শতাংশ ভোট। সেখানে জামায়াত ছাড়া খুব কম দলই উল্লেখযোগ্য ভোট পায়।
এই নির্বাচনের একটি বড় বৈশিষ্ট্য ছিল আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি। দলটি নিষিদ্ধ থাকায় তাদের বিপুল ভোটব্যাংক সরাসরি কোনো একক দলের দিকে না গিয়ে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি ও জামায়াত উভয়েই সেই ভোটের একটি অংশ নিজেদের দিকে টানতে পেরেছে। আবার একটি অংশ ভোটদান থেকে বিরত থেকেছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ফলে ভোটের হার ও শতাংশের অঙ্ক আগের নির্বাচনের তুলনায় ভিন্ন চিত্র তৈরি করেছে।
একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠনের পথ খুলবে। সে ক্ষেত্রে কোন দল কত শতাংশ ভোট পেয়েছে, তা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, এই নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগত ও ভোটের দিক থেকে পরিষ্কার এগিয়ে থাকলেও আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি এবং ভোটের পুনর্বিন্যাস পুরো ফলাফলকে ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দাঁড় করিয়েছে। আগামী দিনে এই ভোটের অঙ্ক নতুন রাজনৈতিক ভারসাম্য গঠনে কী ভূমিকা রাখে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
বায়ান্ননিউজ২৪/আবির
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন