বাংলাদেশ

ভোটের মাঠে চমক: আলোচনার শীর্ষে থেকেও হারলেন যেসব প্রার্থী

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৪:৩১

আলোচনার শীর্ষে থেকে ও হেরে যাওয়া প্রার্থীরা

বায়ান্ননিউজ২৪ ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় দলগুলোর জয় যেমন আলোচনায়, তেমনি আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে কয়েকজন বহুল পরিচিত প্রার্থীর পরাজয়। টেলিভিশন টকশো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, আন্দোলন কিংবা জাতীয় রাজনীতির নানা ইস্যুতে সক্রিয় থাকার কারণে এসব প্রার্থীকে ঘিরে ছিল ব্যাপক আলোচনা। তবে ভোটের চূড়ান্ত হিসাবে অনেকেই প্রত্যাশিত ফল পাননি।

পঞ্চগড়-১ আসনে এনসিপি নেতা সারজিস আলমকে হারিয়ে বেসরকারিভাবে জয় পেয়েছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নওশাদ জমির। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২২ হাজার ১৩৪ ভোট। সারজিস আলম পেয়েছেন ২০ হাজার ১৯৯ ভোট।

ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীকে ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট পান। তবে এই আসনে বিএনপির হাবিবুর রশিদ ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।

ঢাকা-৮ আসনে আলোচিত লড়াইয়ে এনসিপির নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন বিএনপির মির্জা আব্বাসের কাছে। মির্জা আব্বাস মোট ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট পান। নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী পান ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট।

সুনামগঞ্জ-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ৫৭ হাজার ৮৫৮ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। বিএনপির নাছির উদ্দিন চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে পান ৯৭ হাজার ৭৯০ ভোট।

বরিশাল-৩ আসনে আমার বাংলাদেশ পার্টির আলোচিত প্রার্থী আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া ব্যারিস্টার ফুয়াদ ৫৭ হাজার ১৪৯ ভোট পেয়ে বিএনপির জয়নাল আবেদীনের কাছে হেরে যান। জয়নাল আবেদীন পান ৭৮ হাজার ১৩১ ভোট।

ফেনী-২  আসনে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ৮০ হাজার ৫৮ ভোট পেলেও জয় পাননি। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক জয়নাল আবদিন ১ লাখ ৩১ হাজার ২১০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।

ঢাকা-১৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হককে হারিয়ে জয় পেয়েছেন বিএনপির ববি হাজ্জাজ। ধানের শীষ প্রতীকে ববি হাজ্জাজ পান ৮৮ হাজার ৩৮৭ ভোট।

খুলনা-৫ আসনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯৫৬ ভোট পেলেও অল্প ব্যবধানে পরাজিত হন বিএনপির মোহাম্মদ আলি আসগার লবির কাছে। লবি পান ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৫৮ ভোট। ব্যবধান ২ হাজার ৭০২ ভোট।

বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না মাত্র ৩ হাজার ৪২৬ ভোট পেয়ে জামানত হারান। এই আসনে বিএনপির মীর শাহে আলম ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

ঢাকা-১২ আসনে বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী সাইফুল হক পরাজিত হন জামায়াতের সাইফুল আলমের কাছে। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সাইফুল আলম পান ৫৩ হাজার ৭৭৩ ভোট।

ঢাকা-১৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আমিনুল হক ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট পেলেও জয় পাননি। জামায়াতের আব্দুল বাতেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত পরিচিতি বা মিডিয়া উপস্থিতি সবসময় নির্বাচনে সাফল্য নিশ্চিত করে না। মাঠ পর্যায়ের সংগঠন, স্থানীয় প্রভাব ও ভোটার সংযোগই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এবারের নির্বাচনে সেই বাস্তব চিত্রই ফুটে উঠেছে।

বায়ান্ন নিউজ২৪/চৈতী

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন