বাংলাদেশ

১৫–১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ক্ষমতা হস্তান্তরের সম্ভাবনা: প্রেস সচিব

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৩:২৯

প্রেস কনফারেন্সে বক্তব্য রাখছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, নির্বাচনের পর যত দ্রুত সম্ভব অন্তর্বর্তী সরকার নবনির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে। তার ভাষায়, পুরো প্রক্রিয়া তিন দিনের মধ্যেই সম্পন্ন হতে পারে এবং সম্ভাব্য সময় হচ্ছে ১৫ বা ১৬ ফেব্রুয়ারি।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রেস সচিব জানান, নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণের পরপরই সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। এরপর বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে। তিনি স্পষ্ট করেন, পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের কার্যক্রমে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো ভূমিকা থাকবে না।

তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সবচেয়ে কম সময়ের মধ্যে একটি সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ হ্যান্ডওভার নিশ্চিত করা। আমার মনে হয় না এই প্রক্রিয়া ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারির পরে গড়াবে।”

সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল আলম বলেন, অতীতে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের যে অভিযোগ ছিল, বর্তমানে তেমন কোনো ঘটনা ঘটছে না। যারা আগে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নির্বাচন প্রস্তুতি প্রসঙ্গে প্রেস সচিব জানান, রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রণীত ‘জুলাই চার্টার’ বর্তমানে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামতের জন্য উপস্থাপিত হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমেই এর চূড়ান্ত প্রতিফলন দেখা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। আগে রাজনীতি ছিল কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত, এখন সেটি অনেক বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে।” সরকার ছাড়ার আগে উপদেষ্টারা নিজেদের সম্পদের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করবেন বলেও জানান তিনি।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে শফিকুল আলম বলেন, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের সহিংসতা দেখা যায়নি এবং দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচারণা চলছে। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণ পরিণত ও দায়িত্বশীল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচনী সহিংসতার পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রেস সচিব জানান, পুলিশের তথ্য অনুযায়ী ২০১৪ সালের নির্বাচনে ১১৫ জন, ২০১৮ সালে ২২ জন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে ৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। চলতি নির্বাচনী সময়ে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা পাঁচজন, যা আগের তুলনায় অনেক কম। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবারের নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য।

বায়ান্ননিউজ২৪/আইরিন

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন