বাংলাদেশ

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান নিয়োগে নতুন নিয়ম কার্যকর

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারী ২০২৬ ০৩:৪২

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনে নতুন পরিপত্র জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর ফলে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নিয়োগে কেন্দ্রীয়ভাবে এনটিআরসিএর ভূমিকা আরও শক্তিশালী হলো।

মঙ্গলবার জারি করা পরিপত্রে জানানো হয়, এনটিআরসিএ আইন ২০০৫-এর ধারা অনুযায়ী এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার দায়িত্ব নতুনভাবে বিন্যাস করা হয়েছে। এখন থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর বছরে অন্তত একবার শূন্য পদের তালিকা এনটিআরসিএর কাছে পাঠাবে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে লিখিত বা বাছাই পরীক্ষায় ৮০ নম্বর, শিক্ষাগত যোগ্যতার জন্য ১২ নম্বর এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৮ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। লিখিত ও মৌখিক উভয় পরীক্ষায় আলাদাভাবে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর অর্জন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

লিখিত পরীক্ষায় প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে সর্বোচ্চ তিনগুণ প্রার্থীকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হবে। এরপর লিখিত, মৌখিক ও শিক্ষাগত যোগ্যতার মোট নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে ১:১ অনুপাতে তালিকা প্রকাশ করা হবে।

মেধাক্রমে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পছন্দক্রম দিতে পারবেন। প্রার্থীদের মেধাক্রম ও পছন্দের ভিত্তিতে প্রতিটি পদের জন্য একজনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের সুপারিশ করা হবে।

এনটিআরসিএর সুপারিশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডিকে এক মাসের মধ্যে নিয়োগপত্র দিতে হবে। কোনো প্রার্থী ভুল তথ্য বা অন্য কোনো কারণে যোগদান করতে না পারলে, শূন্যপদ থাকা সাপেক্ষে মেধাক্রম অনুযায়ী পুনরায় সুপারিশ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

তবে ফৌজদারি মামলায় আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত বা বিভাগীয় মামলায় শাস্তিপ্রাপ্ত কেউ এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে পারবেন না।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই ব্যবস্থা চালু হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে, স্থানীয় প্রভাব কমবে এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বায়ান্ননিউজ২৪/আইরিন

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন