বিশ্ব

এবার ইউরোপকে ট্রাম্পের কড়া হুমকি

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারী ২০২৬ ০৫:১৫

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুকে কেন্দ্র করে ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্রদের উদ্দেশে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন, যা পশ্চিমা জোটে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করেছে।

বুধবার সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের মঞ্চে দীর্ঘ ভাষণে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ডের অধিকার ও মালিকানা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আসা উচিত। যদিও সামরিক শক্তি ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেন তিনি, তবে সম্মতি না মিললে কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিতে দ্বিধা করেননি।

ট্রাম্প ন্যাটো ও ইউরোপীয় মিত্রদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা চাইলে হ্যাঁ বলতে পারেন, তাহলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব। আর যদি না বলেন, সেটাও আমরা মনে রাখব।” তার এই মন্তব্যকে ইউরোপীয় রাজনীতিকরা স্পষ্ট চাপ প্রয়োগ হিসেবে দেখছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ন্যাটো যেন যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনার পথে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়। ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র বিকল্প পথ বেছে নেবে।

ভাষণের বড় অংশজুড়ে ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আটটি দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

এর প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপীয় নেতারা কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন বলেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুকে কেন্দ্র করে শুল্ক আরোপ ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের জন্য ভুল বার্তা দেবে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানান, প্রয়োজন হলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক হাতিয়ার ব্যবহার করতে প্রস্তুত। তিনি একে ইউরোপের বাণিজ্যিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেন।

ডেনমার্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ন্যাটোর সাবেক মহাসচিব আন্দার্স ফগ রাসমুসেন বলেন, ট্রাম্পকে খুশি রাখার কৌশল আর কার্যকর নয়। তার মতে, ইউরোপকে এখন আরও দৃঢ় ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে হবে।

গ্রিনল্যান্ড ঘিরে এই উত্তেজনা শুধু ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দীর্ঘদিনের মিত্রতার ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।

বায়ান্ননিউজ২৪/আবির

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন