প্রকাশ: ২১ জানুয়ারী ২০২৬ ১৩:০৪
মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রথম ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কালাম আজাদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেছেন। বুধবার ২১ জানুয়ারি সকালে তিনি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
সূত্র জানায়, গত বছর নিজের সাজা স্থগিতের আবেদন জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন আবুল কালাম আজাদ। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী এই আবেদন করা হয়। পরবর্তীতে আদালতের আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত শর্তে তিনি ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন।
এর আগে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২-এর তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চ আবুল কালাম আজাদকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। রায়ে বলা হয়, আদালতে আত্মসমর্পণপূর্বক আপিল দায়েরের শর্তে তার দণ্ডাদেশ এক বছরের জন্য স্থগিত থাকবে।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মোট আটটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে সাতটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং চারটি অভিযোগে কারাদণ্ড দেওয়ার সুযোগ থাকলেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় অন্য দণ্ডগুলো কার্যকর করা হয়নি। অপর একটি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তা খারিজ করা হয়।
রায়ে উল্লেখ করা হয়, মুক্তিযুদ্ধকালে তার বিরুদ্ধে ১৪ জনকে হত্যা, তিন নারীকে ধর্ষণ, নয়জনকে অপহরণ, ১০ জনকে অবৈধভাবে আটক, পাঁচটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ১৫টি বাড়িতে লুটপাটের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
এই রায়ের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধের মামলায় প্রথমবারের মতো মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়। তবে রায় ঘোষণার সময় আবুল কালাম আজাদ পলাতক থাকায় তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আগেই তিনি ভারত হয়ে পাকিস্তানে পালিয়ে যান।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ঘোষিত সেই রায়ের ধারাবাহিকতায় আজ তার আত্মসমর্পণ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বায়ান্ননিউজ২৪/নিউজরুম এডিটর
ইতিহাস ও ঐতিহ্য থেকে আরো পড়ুন