সরকারের একটি বিশেষ গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এই পরিস্থিতিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উচ্চ ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারী ২০২৬ ০৬:২৭
আরাকান আর্মির ড্রোন প্রযুক্তি বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি
বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্ত আবারও অস্থির হয়ে উঠছে। রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সংঘাত তীব্র হওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কক্সবাজার টেকনাফ সীমান্ত ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায়। সরকারের একটি বিশেষ গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এই পরিস্থিতিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উচ্চ ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকশ বাংলাদেশি পাহাড়ি যুবক মিয়ানমারে আরাকান আর্মির পক্ষে যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে তারা আধুনিক অস্ত্র ও সহিংস মানসিকতা নিয়ে দেশে ফিরছে, যা ভবিষ্যতে সীমান্ত এলাকায় মিলিশিয়া কার্যক্রম, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও উগ্রবাদ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধফেরত এসব যুবক সহজেই মাদক পাচার, অপহরণ কিংবা সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারে। এতে কক্সবাজার টেকনাফ অঞ্চল দীর্ঘমেয়াদে একটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ নিরাপত্তা অঞ্চলে পরিণত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, আরাকান আর্মি এখন ড্রোন ব্যবহার করে সামরিক অভিযান ও নজরদারি চালাচ্ছে। সম্প্রতি রাখাইনে ড্রোন হামলার ঘটনা সীমান্ত নিরাপত্তায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সীমান্ত এলাকায় পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা না থাকায় এসব ড্রোন কার্যক্রম ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
এদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্প এলাকায় গোলাগুলি, অপহরণ ও অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ বেড়েছে। বিভিন্ন রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে আরাকান আর্মির সংঘাতে সাধারণ রোহিঙ্গারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
গোপন প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, মাদক পাচারের অর্থেই এই সংঘাত টিকে আছে। ইয়াবাসহ মাদক প্রবাহ বন্ধ না হলে সীমান্ত অঞ্চলে সহিংসতা আরও বাড়বে।
গোয়েন্দা সংস্থার সুপারিশে বলা হয়েছে, যুদ্ধফেরত বাংলাদেশিদের তালিকা তৈরি, সীমান্তে অ্যান্টি ড্রোন প্রযুক্তি স্থাপন, দুর্গম পাহাড়ে স্থায়ী ক্যাম্প গড়ে তোলা এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নজরদারি জোরদার করা জরুরি।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয় বরং জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বড় পরীক্ষা। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পাহাড় ও সীমান্তজুড়ে অস্ত্রের এই ঝনঝনানি আরও ভয়ংকর রূপ নিতে পারে।
বায়ান্ননিউজ২৪/এডিটর ইন চীফ
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন