বাংলাদেশ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্দেশনায় সঙ্গীত ও নৃত্য বাদ, সংস্কৃতি অঙ্গনে উদ্বেগ

প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারী ২০২৬ ২১:২৬

দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চিত্রাঙ্কন, কবিতা আবৃত্তি, বিতর্ক ও গজল প্রতিযোগিতা আয়োজনের নির্দেশনা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ইসলামি আন্দোলনসহ কয়েকটি উগ্রপন্থী রাজনৈতিক ও ধর্মভিত্তিক দলের আপত্তির মুখে এই কর্মসূচি থেকে সঙ্গীত, বাদ্যযন্ত্র, নৃত্য, নাটক ও লোকসংস্কৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পচর্চা বাদ দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের জারি করা স্মারকে দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের জন্য চিত্রাঙ্কন, কবিতা আবৃত্তি, একক বিতর্ক ও গজল প্রতিযোগিতার অনুমতি দেওয়া হলেও সংগীত বা নৃত্যভিত্তিক কোনো আয়োজন অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বিষয়টি সামনে আসার পর শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক কর্মী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

সংস্কৃতি সংশ্লিষ্টদের দাবি, শিশুদের সুকুমারবৃত্তি বিকাশে সঙ্গীত ও নৃত্য অনিবার্য অনুষঙ্গ। শুধুমাত্র ধর্মীয় সংগীত বা নির্দিষ্ট ধারার চর্চাকে গুরুত্ব দিয়ে সার্বজনীন শিল্পচর্চা বাদ দেওয়া হলে প্রাথমিক শিক্ষার মৌলিক উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়। তাদের ভাষ্য, একটি বহুধর্মীয় ও বহুসাংস্কৃতিক রাষ্ট্রে প্রাথমিক শিক্ষায় সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য উপেক্ষা করা সংবিধানের চেতনাবিরোধী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে সঙ্গীত ও নৃত্য অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব থাকলেও কিছু ইসলামি আন্দোলন ও ধর্মভিত্তিক সংগঠনের আপত্তির কারণে সেটি বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি।

সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে যদি ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট ধারার সংগীতচর্চা নির্দেশনা দেওয়া যায়, তবে একই রাষ্ট্র মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্যও সঙ্গীতচর্চাকে স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ কেন। তারা আশঙ্কা করছেন, এর ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জাতীয় সঙ্গীত, দেশাত্মবোধক গান এবং রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন, হাসন রাজা ও শাহ আব্দুল করিমের মতো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।

এদিকে পুরো আয়োজন একটি বেসরকারি লাভজনক প্রতিষ্ঠান ট্যালেন্ট স্পোর্টস লিমিটেডের মাধ্যমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের মতে, রাষ্ট্রীয় শিক্ষা কার্যক্রম বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে সরকার নিজ উদ্যোগে পরিচালনা করলে নীতিগত স্বচ্ছতা ও সাংস্কৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা সহজ হতো।

সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো অবিলম্বে নির্দেশনাটি পুনর্বিবেচনা করে প্রাথমিক শিক্ষায় সঙ্গীত, নৃত্য ও লোকসংস্কৃতি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, ধর্মীয় চাপের কাছে নতি স্বীকার করে শিক্ষা নীতিতে পরিবর্তন আনলে তা দীর্ঘমেয়াদে সমাজকে আরও সংকীর্ণ ও বিভক্ত করে তুলবে।

বায়ান্ননিউজ২৪/এডিটর ইন চীফ 

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন