বাংলাদেশ

সড়কে মৃত্যু মিছিল, এক বছরে প্রাণ গেল ৯ হাজার ১১১ জনের

প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারী ২০২৬ ১৪:২২

প্রতীকী ছবি

দেশে সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।২০২৫ সালে সারাদেশে সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৯ হাজার ১১১ জন মানুষ, আহত হয়েছেন আরও ১৪ হাজার ৮১২ জন।এক বছরে মোট সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৭২৯টি।

রোববার (৪ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ক্ষমতার পালাবদল হলেও সড়ক ব্যবস্থাপনা ও নীতিতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না আসায় দুর্ঘটনা ও ভোগান্তি বেড়েছে।

তিনি বলেন, যানজট ও চাঁদাবাজি বেড়ে যাওয়ায় পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের ভাড়া আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।অন্তর্বর্তী সরকার সড়ক পরিবহনখাত সংস্কারে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত, নিরাপত্তা ও ভাড়া নৈরাজ্য পরিবহন মালিকদের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল রয়ে গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সড়ক দুর্ঘটনার কারণে বছরে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৬০ হাজার কোটি টাকারও বেশি।এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি ইশতেহারে সড়ক নিরাপত্তা ও উন্নত গণপরিবহনের অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্যমতে, ২০২৫ সালে সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে মোট ৭ হাজার ৩৬৯টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৯ হাজার ৭৫৪ জন এবং আহত হয়েছেন ১৫ হাজার ৯৬ জন।

এর মধ্যে-

রেলপথে ৫১৩টি দুর্ঘটনায় নিহত ৪৮৫ জন, আহত ১৪৫ জন

নৌপথে ১২৭টি দুর্ঘটনায় নিহত ১৫৮ জন, আহত ১৩৯ জন এবং নিখোঁজ ৩৮ জন

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৪৯৩ ঘটনায় নিহত ২ হাজার ৯৮৩ জন এবং আহত ২ হাজার ২১৯ জন

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট দুর্ঘটনার ৩৭ দশমিক ০৪ শতাংশ ঘটেছে মোটরসাইকেলে।নিহতের ক্ষেত্রে এই হার ৩৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং আহতের ক্ষেত্রে ১৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ, নিহত বেড়েছে ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং আহত বেড়েছে ১৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

দুর্ঘটনার স্থান বিশ্লেষণে দেখা গেছে-

৩৮ দশমিক ২২ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে

২৭ দশমিক ১৩ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে

২৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ ফিডার রোডে

৪ দশমিক ২২ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে

০ দশমিক ৯০ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে

০ দশমিক ৬৮ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে

সংবাদ সম্মেলনে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে ১২ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়।এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

সড়ক নিরাপত্তায় বাজেট বাড়ানো

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে আলাদা সড়ক নিরাপত্তা উইং চালু

দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ

৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান বন্ধ

পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ

আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা

জাতীয় মহাসড়কে আলাদা সার্ভিস লেন চালু

গণপরিবহনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে যাত্রী প্রতিনিধির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা

যাত্রী কল্যাণ সমিতির নেতারা বলেন, এখনই কার্যকর সংস্কার না হলে সড়কে মৃত্যুর এই মিছিল আরও দীর্ঘ হবে, যার দায় এড়াতে পারবে না রাষ্ট্র।

বায়ান্ননিউজ২৪/সৈকত মাহমুদ 

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন