বাংলাদেশ

মৌলভীবাজারে ছাত্রলীগ নেতার বাবা–চাচাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ জামায়াতের বিরুদ্ধে

প্রকাশ: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৩:৪৮

বড়লেখা থানা

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় নিজ বাড়িতে ঢুকে দুই ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতদের একজন কুয়েতপ্রবাসী ও অপরজন কৃষক। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্বজনদের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে জামায়াতে ইসলামী ও শিবির সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের বিওসি কেছরিগুল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—ওই গ্রামের মৃত নিমার আলীর দুই ছেলে কুয়েতপ্রবাসী জামাল উদ্দিন (৫৫) ও কৃষক আব্দুল কাইয়ুম (৪৮)। আহত ব্যক্তি হলেন একই গ্রামের মৃত আব্দুস সবুরের ছেলে মো. জমির উদ্দিন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের আগমুহূর্তে কয়েকজন দুর্বৃত্ত দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে নিহতদের বাড়িতে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই ভাই নিহত হন।

নিহত জামাল উদ্দিন ছিলেন কুয়েতপ্রবাসী এবং তিনি ছয় মাস আগে দেশে ফেরেন। তিনি মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-প্রচার সম্পাদক মেহেদী হাসান কবিরের বাবা বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নিহতদের স্বজন ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তাদের দাবি, জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরের স্থানীয় সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আব্দুর রব বলেন,
“হত্যাকাণ্ডটি অত্যন্ত নৃশংস। রাজনৈতিক বিরোধ থেকেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে এলাকাবাসী মনে করছেন।”

বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান খান বলেন,
“খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।”

মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) মো. আজমল হোসেন বলেন,
“ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে এখনো আটক করা হয়নি।

বায়ান্ননিউজ২৪/মাহিন

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন