সোশ্যাল মিডিয়া

ক্লান্তির কারণ যেভাবে স্মার্টফোন ও সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি

প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫ ০৬:৫৯

লাইফস্টাইল ডেস্ক:

দৈনন্দিন কাজ, পরিবার ও অন্যান্য দায়–দায়িত্বে সবাই ক্লান্ত হয়। কিন্তু সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, সত্যিকারের ক্লান্তি শুধু ব্যস্ততা নয় — এর পেছনে আছে একটি নতুন ধরনের মানসিক চাপ, যা আসলে ডিজিটাল ক্লান্তি বা “digital fatigue”। স্মার্টফোন, সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন কাজের অতিরিক্ত ব্যবহার — এইসব মিলিয়ে এখন আমাদের মস্তিষ্ক ও মনই হয়ে পড়ছে ভারাক্রান্ত। 

গ্লোবাল এবং বহু গবেষণার আলোকে দেখা যায়, মোবাইল-মন্থর সময় ও সোশ্যাল মিডিয়ার নিরবচ্ছিন্ন নোটিফিকেশন, বার্তা, সংবাদ, আপডেট — এগুলোর ধারাবাহিক প্রবাহ মানুষের মনকে বিরক্তি, অবসন্নতা ও মানসিক ক্লান্তিতে নিয়ে যায়। একাধিক কাজ বা অ্যাপের মধ্যে বারবার “সুইচ” করা / মনযোগ বদলানো (যেমন: অফিস কাজ, ই-মেইল, মেসেজ, সোশ্যাল মিডিয়া) বিশেষত ক্ষতিকর। 

বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম — যারা “জেন” বা “আলফা” — তাদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। screen-time বা ডিজিটাল নির্ভরতা বাড়লে ঘুমের সমস্যা, একঘেয়েমি, অনিদ্রা, একাডেমিক বা সামাজিক মনোযোগ–ক্ষয়, মানসিক চাপ ও মাথাব্যথার মতো সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। 

কিভাবে “ডিজিটাল ক্লান্তি” থেকে নিজেকে রক্ষা করবেন — কিছু প্রস্তাব

প্রতিদিন একাধিক অ্যাপ বা কাজ একই সঙ্গে খোলা না রাখুন; এক সময়ে একটি কাজ শেষ করার চেষ্টা করুন।

কাজের মাঝে নিয়মিত বিরতি নিন; প্রতিনিয়ত স্ক্রিনে থাকলে মন–দেহ দুটোরই বিশ্রাম পাওয়া যায় না।

ব্যক্তিগত সময় বা রাতে নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন — সময়টা ফোন নয়, নিস্তব্ধতা, পড়াশোনা বা পরিবারের সঙ্গে কাটান।

সোশ্যাল মিডিয়া বা ভিডিও কলের সময় মাঝে মাঝে ভিডিও অফ রাখুন, নিজেকে “শুনুন” এবং সবসময় অন-লাইনে থাকার চাপ থেকে বিরত থাকুন।

অফলাইনে — পরিবারের সঙ্গে দেখা, বন্ধু-বিলাস, শখের কাজ — এমন কিছু ব্যস্ততা রাখুন যা ফোন নয়, আপনাকে প্রকৃত পৃথিবিতে ফিরিয়ে নিয়ে আসে।

আজকের ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তি আমাদের জীবন সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু এর সঙ্গে এসেছে এক নতুন ধরণের ক্লান্তি — মাথা, মন, অনুভূতি সবকিছুই যে অতিরিক্ত তথ্য, নোটিফিকেশন, চাহিদার ওঠাপড়ার বোঝা বহন করতে পারে, সেটাও প্রতিফলিত হচ্ছে। তাই সচেতন হওয়া জরুরি — প্রযুক্তি আপনার প্রতিপক্ষ নয়, তবে তার ব্যবহারে ভারসাম্য না থাকলে প্রযুক্তিই হয়ে ওঠে ক্লান্তির কারণ।

বায়ান্ননিউজ২৪/চৈতী

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আরো পড়ুন