তারেক রহমানের তীব্র প্রতিক্রিয়া
প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ১৪:৪০
ভিডিও কনফারেন্সে তারেক রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকারের বন্দর বা এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের মতো দীর্ঘমেয়াদি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে তিনি মন্তব্য করেন, একটি দেশ যেই সরকারকে নির্বাচিত করেনি, সেই সরকার দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিতে পারে না।
চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল এবং ঢাকার পানগাঁও নৌ টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গেই এই প্রতিক্রিয়া জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
তারেক রহমান পোস্টের শুরুতে গাজীপুরের একটি ছোট পোশাক কারখানার মালিকের উদাহরণ তুলে ধরে লেখেন, শুল্ক–সুবিধা নীরবে তুলে নেওয়ার পর সেই উদ্যোক্তা ও তার শত শত শ্রমিক কীভাবে সংকটের মুখে পড়েন—তা সংবাদ শিরোনাম হয় না, কিন্তু ঘরের ভেতর তৈরি করে তীব্র নীরব সংকট। তিনি নারায়ণগঞ্জের এক তরুণ স্নাতকের পরিবারের আর্থিক অনিশ্চয়তার কথাও উল্লেখ করেন, যাদের ভাগ্য নির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাদের ছিল না।
তিনি লেখেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ কিংবা চট্টগ্রাম বন্দরের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা—এসব সিদ্ধান্ত এমন একটি অন্তর্বর্তী সরকার নিচ্ছে, যাদের কোনো নির্বাচনী ম্যান্ডেট নেই। অথচ এসব সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতি বহু দশক ধরে প্রভাবিত করবে। তারেক রহমান মনে করেন, ২০২৬ সালের নির্ধারিত সময়ের আগেই এলডিসি উত্তরণের সময়সূচি এগিয়ে নেওয়া পুরোপুরি একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, যা অনির্বাচিত সরকারের নেওয়া উচিত নয়।
জাতিসংঘের অতীত সিদ্ধান্তের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, অ্যাঙ্গোলা ও সামোয়ার মতো দেশ সময়সীমা পরিবর্তনের সুযোগ পেয়েছে। এমনকি কোনো দেশ অর্থনৈতিক ধাক্কায় পড়লে জাতিসংঘ নমনীয়তা দেখাতে পারে। তারেক রহমানের মতে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সময় চাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া অনর্থক এবং আলোচনার শক্তিকে দুর্বল করে।
চট্টগ্রাম বন্দরের কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলোকে তিনি “জাতীয় সম্পদ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি” বলে উল্লেখ করেন। এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এমন একটি সরকারের মাধ্যমে, যারা জনগণের কাছে জবাবদিহি নয়—এ দাবি তার। তিনি অভিযোগ করেন, সমালোচনাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না, দ্রুততার অজুহাতে যৌক্তিক উদ্বেগ উপেক্ষা করা হচ্ছে এবং সব কৌশলগত বিকল্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, বিষয়টি কাউকে আক্রমণ বা ব্যক্তিগত সমালোচনা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার প্রশ্ন। তার ভাষায়, বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ বা বন্দর সংস্কারের বিরুদ্ধে কেউ নয়; মূল যুক্তি হলো—দেশের দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত সেই সরকারই নেবে, যাদের প্রতি জনগণের আস্থা ও গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট রয়েছে।
ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মানুষ কখনো তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নীরব ছিল না। তারা সবসময়ই মর্যাদা, মতপ্রকাশ ও পছন্দের অধিকারের জন্য ত্যাগ করেছে। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের দিকে মানুষ তাকিয়ে আছে, কারণ সেখানেই প্রমাণিত হবে—বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়ার অধিকার দেশের মানুষের, যারা এখানে বাস করেন এবং বিশ্বাস করেন, সবার আগে বাংলাদেশ।
বায়ান্ননিউজ২৪/চৈতী
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন