আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আন্দোলনের সমন্বয়ক হিসেবে আলোচনা–সমালোচনার কেন্দ্রে থাকা উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাবেক এপিএসসহ তিন ব্যক্তিগত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে, সেই তদন্ত ছয় মাসেও এগোয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তদন্ত কর্মকর্তাদের অনুসন্ধানে গড়িমসি, প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহে ব্যর্থতা, দ্বিমুখী তথ্য প্রদান এবং অদৃশ্য রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তদন্ত কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, এ কারণে সংস্থাটি এখন পর্যন্ত তিনবার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করেছে। প্রয়োজনে আরও পরিবর্তনের চিন্তা করা হচ্ছে। এতেও কাজ না হলে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
অভিযোগ কী?
সূত্রের দাবি, দুই উপদেষ্টার তিন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা প্রভাব খাটিয়ে বদলি–পদোন্নতি বাণিজ্য, মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন ক্রয়–প্রক্রিয়ায় কমিশন নেওয়া এবং পছন্দের ঠিকাদারদের কাছ থেকে সুবিধা নেওয়ার মতো অভিযোগে অভিযুক্ত।
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তাদের ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করলে ‘অস্বাভাবিক লেনদেন’-এর তথ্য পাওয়া যায়। পরে দুদক তিনজনকেই তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তবে তাদের ব্যাখ্যায় দুদক সন্তুষ্ট হতে পারেনি বলে জানা গেছে।
আন্দোলন ও দাবি
ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন মহল তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি তোলে। যুব অধিকার পরিষদ দুদক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ‘মার্চ টু দুদক’ কর্মসূচি ঘোষণা করে স্মারকলিপি জমা দেয়।
এ ছাড়া ২৭ এপ্রিল হাইকোর্টের দুই আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাদিম মাহমুদ ও শফিকুল ইসলাম দুদকে একই ধরনের অভিযোগ দাখিল করেন।
অগ্রগতি নেই ছয় মাসেও
দুদক সূত্র বলছে, তীব্র সমালোচনার পর গত ৪ মে থেকে অনুসন্ধান শুরু হলেও ছয় মাস পার হয়ে গেলেও তদন্ত শেষ হয়নি।
দুদকের মানিলন্ডারিং শাখার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান—
যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের পিও তুহিন ফারাবি, এবং ডা. মাহমুদুল হাসান—
এই তিনজনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টেই অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তারা দুদকের বেশিরভাগ প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিতে পারেননি বলে দাবি ওই কর্মকর্তার।
তদন্ত কর্মকর্তাদের ভয়ের কারণ
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অদৃশ্য রাজনৈতিক চাপের কারণে তদন্ত কর্মকর্তারা নথি সংগ্রহের সময় নানা সমস্যায় পড়েন। এতে অনুসন্ধান থমকে আছে। তারা মনে করেন, দুদক যদি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে দ্রুত তদন্ত শেষ করা সম্ভব।
এনসিপি নেতাদের আনাগোনা
দুদক সূত্র দাবি করছে, সম্প্রতি এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের দুদক কার্যালয়ে যাতায়াত বেড়েছে। আর্থিক অনিয়মে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে—তাদের মামলায় সুপারিশ করতেই দলটির কিছু নেতা দুদকে যাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।
সম্প্রতি এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন দুদকে যান। এ বিষয়ে জানতে তাকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
দুদকের বক্তব্য
তদন্তের অগ্রগতি জানতে চাইলে দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন বলেন,
“অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা তাদের কাজ শেষে প্রতিবেদন জমা দেবেন।”
তবে কবে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে—এ প্রশ্নের নির্দিষ্ট কোনো জবাব তিনি দিতে পারেননি।
অব্যাহতি ও নতুন উদ্যমে দুদক
দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর গত ২২ এপ্রিল উপদেষ্টা আসিফের এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর আগে একই অভিযোগে নূরজাহান বেগমের পিও তুহিন ফারাবিকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়।
বায়ান্ননিউজ২৫/মুহতাসিম
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন