“ইউনূস একজন দখলবাজ নেতায় পরিণত হয়েছেন—ক্ষমতা ও ভাবমূর্তি নিজের দখলে রেখে দেশের সংবাদমাধ্যম, সংস্কৃতি, এমনকি সংস্কারের ক্ষেত্রকেও চুপ করিয়ে দিয়েছেন। নীরব থেকে তিনি সমাজকেই নীরব হতে উৎসাহিত করেছেন।”
প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫ ২২:১৫
জিয়া হায়দার রহমান (বাঁয়ে)। ছবি: বাংলা একাডেমির ফেইসবুক পেইজ থেকে।
বাংলাদেশে মতপ্রকাশের সীমাবদ্ধতা কেবল রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের কারণে নয়, বরং সমাজের গভীরে প্রোথিত সংস্কার ও ভয়ের কারণে—এমন মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ লেখক ও সম্প্রচারক জিয়া হায়দার রহমান। তিনি বলেন, “আমরা কেন মুহাম্মদ ইউনূস বা আলী রীয়াজের মতো ব্যর্থ ব্যক্তিদের ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলতে পারি না—এই প্রশ্নটাই আজ সবচেয়ে জরুরি।”
মঙ্গলবার বাংলা একাডেমিতে ‘সাহিত্যের রাজনীতি’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
জিয়া হায়দার সরাসরি বলেন, “দেশ একনায়কের শাসন থেকে মুক্তি পেলেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ফেরেনি, কারণ সমাজের ক্ষমতাধর গোষ্ঠী এখনো সমালোচনার ঊর্ধ্বে।”
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই ব্রিটিশ লেখক বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর সহযোগীরা এমন এক ধরনের নীরব সংস্কৃতি গড়ে তুলেছেন, যা ভয়ঙ্কর। তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন, কিন্তু নেতৃত্বের কোনো ভালো নজির স্থাপন করতে পারেননি।”
তিনি অভিযোগ করেন, “ইউনূস একজন দখলবাজ নেতায় পরিণত হয়েছেন—ক্ষমতা ও ভাবমূর্তি নিজের দখলে রেখে দেশের সংবাদমাধ্যম, সংস্কৃতি, এমনকি সংস্কারের ক্ষেত্রকেও চুপ করিয়ে দিয়েছেন। নীরব থেকে তিনি সমাজকেই নীরব হতে উৎসাহিত করেছেন।”
জিয়া হায়দার আরও বলেন, “অধ্যাপক ইউনূস বছরের পর বছর ধরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে ভয় পান। তিনি কখনোই এমন কোনো সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেননি, যেখানে সাংবাদিকদের সরাসরি প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। বিদেশে গিয়ে সাক্ষাৎকার দেন, কিন্তু দেশে একটিও উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিতে সাহস পান না।”
তিনি উল্লেখ করেন, “ভয়েস অব আমেরিকা কিংবা জিটিওতে দেওয়া তাঁর সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারগুলো ছিল একেবারে বিপর্যয়কর। সামান্য চ্যালেঞ্জিং প্রশ্নের মুখেই তিনি ভেঙে পড়েছেন। অথচ বাংলাদেশের গণমাধ্যমে এই ব্যর্থতা নিয়ে কোনো বিশ্লেষণ দেখা যায়নি।”
জিয়া হায়দার প্রশ্ন তোলেন—“কেন দেশের সাংবাদিকরা বা বুদ্ধিজীবীরা ইউনূস বা আলী রীয়াজের মতো ব্যর্থ মানুষদের নিয়ে কিছু বলতে সাহস পান না? কেন কেউ প্রকাশ্যে বলতে পারে না যে তারা এই অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বকে ব্যর্থ মনে করে?”
তিনি বলেন, “এখানে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের চেয়েও বড় সমস্যা হচ্ছে সামাজিক ভীতি ও আত্মসমর্পণ। মানুষ যেন অভ্যস্ত হয়ে গেছে কর্তৃত্ববাদী সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে।”
বাংলাদেশের নারী নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও তিনি অধ্যাপক ইউনূসের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করেন।
“শিরিন হক যখন প্রকাশ্যে আক্রমণের মুখে পড়লেন, তখন প্রধান উপদেষ্টা নিশ্চুপ রইলেন। এমনকি নারী কমিশনের সুপারিশগুলোও উপেক্ষা করা হলো। এটা প্রমাণ করে, তিনি নারী নেতৃত্ব বা সংস্কার কোনো কিছুতেই আন্তরিক নন,” বলেন জিয়া হায়দার।
তিনি আরও বলেন, “জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের নামে যে প্রহসন চলছে, তা মূলত রাজনৈতিকভাবে অন্ধ ও অদক্ষ নেতৃত্বের ফল। অন্তর্বর্তী সরকার এখন অকার্যকর ও বিচ্ছিন্ন একটি প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিণত হয়েছে, যা জনগণের কাছে কোনো জবাবদিহি করে না।”
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন জিয়া হায়দার রহমান। তাঁর ভাষায়, “গণমাধ্যমে এখন ‘নিজস্ব প্রতিবেদক’ নামেই সব প্রকাশিত হয়। নাম প্রকাশের সাহস নেই কারও। এটা আমাদের ভয়ের প্রতীক।”
তিনি উপসংহারে বলেন, “অধ্যাপক ইউনূস চুপ থেকে সমাজকে চুপ করিয়েছেন। তিনি কেবল ব্যর্থ নন, তিনি এক নীরবতার সংস্কৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন। এখন সময় এসেছে এই ভয়ের বৃত্ত ভাঙার।”
সূত্র: বাংলা একাডেমি সেমিনার, ডেইলি স্টার, ভয়েস অব আমেরিকা, বায়ান্ননিউজ২৪ বিশ্লেষণ।
বায়ান্ননিউজ২৪/আবির
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন