বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন থেকে একটি কমিয়ে তিনটি আসন করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রকাশিত গেজেটকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।
প্রকাশ: ১০ নভেম্বর ২০২৫ ২২:২৬
হাইকোর্ট, বাংলাদেশ
বায়ান্ননিউজটুয়েন্টিফোরডটকম: বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন থেকে একটি কমিয়ে তিনটি আসন করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রকাশিত গেজেটকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বাগেরহাটের চারটি আসন বহাল রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার (১০ নভেম্বর) এ রায় ঘোষণা করেন। রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়।
রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বাগেরহাটের চারটি আসন বহাল রাখতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না এবং চার আসনকে কমিয়ে তিনটিতে নিয়ে আসার গেজেট কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—এ মর্মে রুল জারি করেন। সেই রুলে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের ১০ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল।
বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ রুলটি জারি করেছিলেন।
সোমবারের রায়ে হাইকোর্ট বাগেরহাটে চার আসনই বহাল রাখার পক্ষে রায় দেন।
আদালতে রিটকারীদের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট বিপ্লব কুমার পোদ্দার, অ্যাডভোকেট ফয়সাল মোস্তফা, অ্যাডভোকেট রাজিয়া সুলতানা, ব্যারিস্টার কাজী সামান্তা এনাম, অ্যাডভোকেট আমিনুজ্জামান সোহাগ, অ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ও অ্যাডভোকেট তানভীর আহমেদ।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইকরামুল কবির।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন প্রাথমিকভাবে বাগেরহাটের চারটি আসন কমিয়ে তিনটি করার প্রস্তাব দেয়। এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও পেশাজীবীরা আন্দোলনে নামে। সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি গড়ে তুলে হরতাল, অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করে তারা। ইসির শুনানিতেও তারা অংশ নেন।
পরে গত ৪ সেপ্টেম্বর ইসি চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে এবং চারটি আসন থেকে একটি কমিয়ে বাগেরহাটকে তিন আসনে ভাগ করে। আগের প্রস্তাবের তুলনায় কেবল সীমানা পরিবর্তন করা হয়। এর পর থেকেই সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির আন্দোলন চলমান ছিল। তাদের অভিযোগ ছিল—এটি গণমানুষের দাবি উপেক্ষা করে নেয়া সিদ্ধান্ত।
চূড়ান্ত গেজেটে বাগেরহাট-১, ২ ও ৩ আসন নতুন করে সাজানো হয়—
বাগেরহাট-১: বাগেরহাট সদর, চিতলমারী ও মোল্লাহাট
বাগেরহাট-২: ফকিরহাট, রামপাল ও মোংলা
বাগেরহাট-৩: কচুয়া, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা
১৯৬৯ সাল থেকে বাগেরহাটে চারটি আসনেই নির্বাচন হয়ে আসছিল—
বাগেরহাট-১: চিতলমারী, মোল্লাহাট, ফকিরহাট
বাগেরহাট-২: বাগেরহাট সদর, কচুয়া
বাগেরহাট-৩: রামপাল, মোংলা
বাগেরহাট-৪: মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন