সাহিত্য

৭ম বর্ষে পদার্পণ

প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৩ ০৪:০০

palonyসেই ১৯৯৯ সালের কথা। সবেমাত্র এসএসসি পাস করে ময়মনসিংহ নাসিরাবাদ কলেজে প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছি। ময়মনসিংহ সেনবাড়ি মসজিদের পাশে ছিল আমাদের প্রিয় মেস। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র হওয়ায় ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথ প্রাইভেট লেগেই থাকতো। বাবা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কাজিনদের পরামর্শ ছিল, ইন্টারমিডিয়েট হচ্ছে জীবন গড়ার ভিত। ভিত যদি নড়বড়ে হয় জীবনটাও নড়বড়ে হবে। কে শোনে কার কথা। এক ঝাঁক তরুণ স্বাধীনভাবে মেসে থাকি। চোখে স্বপ্ন, নেই ভয়। ক্রিকেট, পড়াশোনা, খেলা, আড্ডা এবং অনেক সময় ধরে পত্রিকা পড়া।

পত্রিকার ভাই এসে একদিন বললেন ‘প্রথম আলো’ পত্রিকাটা পড়ুন, নতুন এসেছে, ভালো লাগবে। নামটা শুনে ভালো লাগলো। একদম প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়া।

সেই যে শুরু, ১৯৯৯ সাল থেকে ‘প্রথম আলো’। জীবনে শত শত প্রথমের মধ্যে অন্যতম প্রথম ‘প্রথম আলো’।

পত্রিকা আসতেই বন্ধুবান্ধবের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যেত। প্রিয় বন্ধু ড.সমীর চৌধুরী, নন্দন মজুমদার এবং ডাক্তার পুটন সাহার মধ্যে খেলার পাতা নিয়ে শুরু হতো কাড়াকাড়ি। আমি আর রুবেল হেডলাইনটা প্রথমেই দেখতে চাই। ‘প্রথম আলো’ এক অকুতোভয় পত্রিকা। সত্য বলতে ভয় পায় না। হেডলাইনে থাকতো চমক আর গরম খবরে ভরা। সম্পাদকীয় কলামের কথা তো বলাই বাহুল্য, উল্লেখ্য ছিল শ্রদ্ধেয় এবিএম মুসা স্যারের কলাম, শ্রদ্ধেয় আব্দুল গাফফার স্যারের পাতা ভরা কলাম।

বন্ধুসভা ও সাহিত্যের পাতা সব সময় ছিল চমকের কেন্দ্রস্থল। সোমবার ছিল আমাদের পুরো একটি হুড়োহুড়ির দিন। ‘আলপিন’ নিয়ে সেকি কাড়াকাড়ি! ‘আলপিন’ একবার যার হাতে যেত, পুরোটা শেষ না করে কেউ ছাড়তো না। সকাল থেকে শুরু হতো ‘আলপিন’ এর সেই সিরিয়াল ধরে পড়া। কিন্তু হঠাৎ ধর্মষাঁড়ের গুতায় ‘আলপিন’ ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আজও সেই বেদনা কাঁদায়।

‘প্রথম আলো’কে নিয়ে জড়িয়ে আছে আমাদের হাজারো স্মৃতি। প্রবাসী জীবনে এসে অ্যাপস এর মাধ্যমে ‘প্রথম আলো’ পড়া হয়।

হঠাৎ নিউইয়র্ক ও ‘প্রথম আলো’ উত্তর আমেরিকা ছাপানো শুরু হল। আনন্দে আমার মনটা খুশিতে নেচে উঠল। মনে হচ্ছিল আমার পত্রিকা, নিউইয়র্কে। সেই প্রথম দিনের মত আবারও পড়বো হাতে নিয়ে।

‘প্রথম আলো’ উত্তর আমেরিকা বাংলাদেশের শিল্প সাহিত্যের আলো ছড়াচ্ছে অপার ভালোবাসায়। একজন পাঠক হয়ে যে পত্রিকা ভালোবেসে লালন করেছি আজীবন, আজ আমার কবিতা প্রকাশিত হচ্ছে প্রিয় পত্রিকায়। ‘প্রথম আলো’ উত্তর আমেরিকা পরিবারের সাথে থাকতে পেরে আমি ধন্য। এই পরিবারে রয়েছে অসংখ্য জ্ঞানী ও গুণীজনদের পদচারণা।

শত প্রথম এর মধ্যে অন্যতম প্রথম হয়ে থাকবে ‘প্রথম আলো’ উত্তর আমেরিকা আমার জীবনে।

জয় হোক ‘প্রথম আলো’ উত্তর আমেরিকার। 

সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন