সাহিত্য

আমাদের দিনকাল

প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৩ ০৩:৫৭

palonyপ্রথম আলো পরিবারের সাথে আছি আজ প্রায় চার বছর হলো। দিন যত যাচ্ছে পরিবারের সাথে সম্পর্ক আরো গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে। প্রথম আলো তার কাজ আরো বাড়িয়েছে। এখন আমরা শুধু রিপোর্টিং আর সাহিত্য পাতা নিয়েই থাকি না, আমরা এখন অনলাইনেও অনেক অনুষ্ঠান করে থাকি। এর সার্থক প্রমাণ আমাদের টক অব দ্য উইক

অনুষ্ঠানটি। প্রথম আলো ইউএসএ-ফেসবুক পেজ থেকে এই অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচারিত হয় প্রতি বৃহস্পতিবার রাত ৯টায়। অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয় এইচ বি রিতার সহযোগিতায়। আর সঞ্চালনায় থাকেন আমাদেরই প্রথম আলোর সদস্যরা। এ পর্যন্ত আমরা অনেকগুলো এপিসোড করেছি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে অনুষ্ঠান করা এবং নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের নিয়ে অনুষ্ঠান করা।

একটা টক অব দ্যা উইক শেষ হওয়ার সাথে সাথে আমরা গভীর আগ্রহে পরবর্তী অনুষ্ঠানের অতিথি কে হবেন, কে উপস্থাপনায় আসবেন, সেটা জানার জন্য অপেক্ষা করতে থাকি। প্রতি বৃহস্পতিবার রাত ৯টা বাজার সাথে সাথে আমরা প্রথম আলো পেজটিতে হুমড়ি খেয়ে পড়ি। মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে করা এপিসোডগুলো ইতিহাসের বুকে সাক্ষী হয়ে থাকবে। আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের ভেতর অংশগ্রহণ করেছেন তাজুল ইমাম, ড. নুরুন নবী, সুব্রত বিশ্বাস এবং ডা. জিয়াউদ্দিন চৌধুরী। আজকে আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের সবার বয়স হয়েছে। প্রকৃতির নিয়মে একদিন তারা অতীত হবেন। কিন্তু তাদের বলা কথাগুলো আমাদের আর্কাইভে সযতনে সংরক্ষিত থাকবে মুক্তিযুদ্ধের দলিল হিসাবে। আমি মনে করি, প্রথম আলোর এটা বিরাট একটা বিজয়। আর এই অনুষ্ঠানগুলোর সাথে জড়িত থাকতে পেরে আমি নিজেও খুব আনন্দ এবং গর্ববোধ করি। শিশুকালে যে মুক্তিযোদ্ধাদের কথা শুনতাম, আজকে এই পড়ন্তবেলায় তাদের মুখোমুখি হতে পারছি, তাদের কথা শুনতে পারছি এটা আমার কাছে এক বিজয় উৎসবের মতো।

আমাদের নতুন প্রজন্ম যারা প্রবাসে বেড়ে উঠছে তারা অনেকেই বাংলা বলতে পারেনা বাংলা সংস্কৃতি বোঝে না। এটা খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। ভিন্ন সংস্কৃতিতে ভিন্ন পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুরা নিজেদেরকে এদেশের একজনই ভাবেন। কাজেই তাদের কাছে বাংলা বলা ,পড়া এবং বাংলা সংস্কৃতিকে ধারণ করা খুবই কঠিন একটা ব্যাপার। কিন্তু এরই মাঝে কিছু ছেলে মেয়ে আছে যারা এদেশে জন্মগ্রহণ করেছে, এদেশেই

বেড়ে উঠেছে কিন্তু তারা অসম্ভব সুন্দরভাবে বাংলা বলতে পারে এবং বাংলা সংস্কৃতির চর্চা করে খুবই মনোযোগের সাথে এবং সার্থকভাবে। তাদেরই একজন ছিল রায়ান রহমান এবং মার্জিয়া স্মৃতি। রায়ান চমৎকারভাবে বাংলা শিখেছে তার মায়ের কাছে এবং এই বাংলা ভাষা সে চমৎকারভাবে বিভিন্ন পরিবেশে প্রয়োগ করে। সে মনে করে তার বাংলা শেখা উচিত কারণ তার দেশে যে আত্মীয়-স্বজন রয়েছেন বিশেষ করে দাদা-দাদী নানা-নানী তাদের জন্য তার বাংলা শেখা উচিত। সে যদি বাংলা বলতে না পারে, তবে কিভাবে তাদের সাথে যোগাযোগ করবে, বা তাদের ভালোবাসা বুঝবে। এক অন্যরকম ভালোবাসার অনুভূতি ছিল আমাদের কাছে।

আর মার্জিয়া স্মৃতি বাংলা সংস্কৃতিকে এত চমৎকারভাবে ধারণ করেছে নিজের ভিতর যা দেখলে বোঝা যায় না যে, সে মাত্র এক বছর বয়সে আমেরিকায় বসবাস করতে শুরু করেছিল। সে চমৎকার বাংলা বলে, চমৎকার নৃত্য করে। ক্লাসিক কত্থক সব নৃত্য সে এই আমেরিকা বসে শিখেছে। নতুন প্রজন্মের এই সার্থকতা আমাদের কাছে উদাহরণ হয়ে থাকবে। আমরা ওদের সাথে কথা বলে শিখেছি কিভাবে বাংলা ভাষাকে এবং বাংলা সংস্কৃতিকে ভালবাসতে হয়, বুকে লালন করতে হয়।

প্রথম আলোর আরেকটা নতুন সংযোজন, মাসিক "উত্তরের জনপদ।" এই বিভাগটি মূলত গড়ে উঠেছে প্রবাসী বাঙ্গালিদের সাফল্য এবং সংগ্রামের কথা নিয়ে। মাঝে মাঝে অন্য দেশিরাও আসেন তাদের কথা নিয়ে, যে কথাগুলো আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়।

প্রথম আলোর সাহিত্য পাতা ক্রমেই আরো সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠছে। এখানে যত দিন যাচ্ছে ততই আমরা পাচ্ছি আমাদের নামিদামি লেখকসহ নবীন মেধাবীদের। নতুনদের দেখছি যত দিন যাচ্ছে, অনেক ভালো লিখছেন। নিজেদের সমৃদ্ধশালী করতে সাহিত্যের সাথে প্রবলভাবে জড়িয়ে থাকছেন। সাহিত্য বিভাগের সম্পাদনা করেন এইচ বি রিতা।

প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার আরেকটি সাফল্য না বললেই নয়। এখানে নারী সাংবাদিকদের কাজ করার অনেক বড় সুযোগ করে দিয়েছেন সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী। আমি শ্রদ্ধার সাথে তার নামটি স্মরণ করছি। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে যে রমণী ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরেন, সেই আবার হাসিমুখে কলম হাতে তুলে নেন কিছু লিখবার জন্য। এ যেন সন্ধ্যা বেলার এক মুঠো উজ্জ্বল সূর্যের আলো, যা মুহূর্তেই মনকে শান্ত সজীব ও স্নিগ্ধতায় ভরিয়ে দেয়। আমাদের নারীরা এখানে সংঘবদ্ধভাবে কাজ করে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে। প্রবাসে আমাদের জন্য যা কিনা টনিক হিসেবে কাজ করে। কাজের মাঝে আমি যেন দেশকে অনুভব করি।

প্রথম আলোয় নারীদের জন্য আলাদা একটা বিভাগ রাখা হয়েছে। উত্তরের নকশা-নামের বিভাগটি পরিচালনা করেন মনিজা রহমান। নকশায় প্রবাসী নারীরা তাদের রান্না, ফ্যাশান, সাজসজ্জা, পিঠা বানানো সবকিছুই দেশীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী করে থাকেন।

তাছাড়া বাংলাদেশ থেকে যখনই কোন বিশেষ ব্যক্তি আমেরিকার সফর করেন, আমরা তাদেরকে নিয়ে প্রাণবন্ত আড্ডায় বসি। সাথে থাকে বাংলাদেশের স্টাইলে ঝালমুড়ি সিঙ্গারা, সমুচা, চা, মিষ্টি ফল। এসবই আসলে দেশের প্রতি আমাদের ভালোবাসা। আর এই সুযোগটা প্রথম আলোর মাধ্যমে আমরা পেয়েছি। তাই প্রথম আলোর সব কাজের সাথে থাকতে পেরে আমি আনন্দ পাই। দেশকে খুঁজে পাই।

পহেলা বৈশাখ, একুশে ফেব্রুয়ারি, ১৬ ডিসেম্বর, ২৬ মার্চ আমরা ঘটা করে পালন করার চেষ্টা করি। কারণ আমরা জানি এখানেই আমাদের জীবনের শিখর প্রথিত।

প্রথম আলোর সপ্তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কামনা করি প্রথম আলো আরো প্রসারিত হোক। প্রথম আলো তার আলো ছড়াক সারা বিশ্বব্যাপী। 

সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন