ক্রীড়াঙ্গন

পেলে ছিলেন শতবর্ষের সেরা ফুটবলার

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারী ২০২৩ ০২:১৯

 পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ জন্ম নেন যাঁরা কালে কালে যুগে যুগে কর্মগুনে সেরাদের সেরার আসনটা পাকাপোক্ত করে যান। এমন কীর্তিমানেরা মৃত্যুহীনের মতো বেঁচে থাকেন শত-হাজার বছর। জীবদ্দশায় তাঁরা যেমন লাখো-কোটি মানুষের ভালবাসায় সিক্ত হন তেমনি জীবন্ত থাকেন মৃত্যুর পরও।

এমনই একজন কীর্তিমান ব্যক্তিত্ব ফুটবলের জাদুকর পেলে। তিনি ১৯৪০ সালের ২৩ অক্টোবর ব্রাজিলে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন একজন অপেশাদার ফুটবলার এবং তাঁর প্রথম কোচ। এডসন আরন্তেস ডো নাসিমেন্তো পেলে জীবদ্দশায় বহু ম্যাচ জিতলেও বার্ধক্যে এসে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে হারলেন জীবনযুদ্ধ নামক শেষ ম্যাচটিতে। ২৯ ডিসেম্বর ৮২ বছর বয়সে এক জীবনে তিন বার বিশ্বকাপ জেতা খেলোয়াড়, ব্রাজিলিয়ানদের ‘রাজা’ চলে গেলেন না ফেরার দেশে। পেলের মেয়ে কেলি নাসিমেন্তো তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। পরে তাঁর অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করা হয়। এ মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পরলে সর্বত্র নামে শোকের ছায়া। ব্রাজিলে ঘোষণা করা হয়েছে তিন দিনের শোক।

মাটির মধ্যে মূর্তি যেমন প্রচ্ছন্ন অবস্থায় থাকে তেমনি ফুটবল খেলাটাও হয়ত সহজাতভাবেই মিশেছিল তাঁর সাথে। ধীরে ধীরে এর প্রকাশ ঘটে। দরিদ্র পরিবারের সন্তান কিশোর পেলে যখন সাও পাওলোর রাস্তায় মোজা দিয়ে তৈরি ফুটবল খেলতেন তখন তার খেলার কৌশল মুগ্ধ করত সকলকে। ১৫ বছর বয়সে সান্তোসের মূল দলে খেলে নৈপুণ্য দেখানোর পর ১৬ বছর বয়সে খেলেন ব্রাজিলের জাতীয় দলে। এর পর কেবলই এগিয়ে যাওয়া। ছড়িয়ে পরতে থাকে তাঁর নাম, যশ, খ্যাতি। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে ১৭ বছর বয়সী সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় পেলে চার ম্যাচে ছয় গোল করে তাক লাগিয়ে দেন পুরো বিশ্বকে।

এরপর কেবলি এগিয়ে যাওয়ার পালা। ১৯৬২ সালে চিলির বিশ্বকাপেও বিজয়ের স্বাদ পান। ১৯৬৯ সালে নিজের ক্যারিয়ারে হাজারতম গোল করার গৌরব অর্জন করেন। ১৯৭০ সালে ইতালিকে হারিয়ে তিনটি বিশ্বকাপ জেতার সৌভাগ্য অর্জন করেন। ১৯৭৫ সালে যোগ দেন নিউইয়র্ক কসমসে। শেষ ম্যাচ খেলেন ১৯৭৭ সালের ১ অক্টোবর জায়ান্টাস স্টেডিয়ামে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পেলে সর্বমোট ১ হাজার ৩৬৩ ম্যাচ খেলে ১ হাজার ২৮১ গোল করেন। ১৯৯৯ সালে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি তাঁকে শতাব্দীর সেরা ক্রীড়াবিদ ঘোষণা করেন। ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা তাঁকে শতবর্ষের সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি দেয়।

বিশেষ ক্রীড়া মেধাসম্পন্ন কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড় পেলে পালন করেছেন ব্রাজিলের ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্ব। অনেকের দৃষ্টিতে তিনি সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়। তাঁর পর দিয়াগো মারাদোনাও হয়ে ওঠেন একজন চৌকষ খেলোয়াড়। সাম্প্রতিককালে মেসি, রোনালদো, নেইমার, এমবাপ্পে যেমন নিজেদের নৈপুণ্য দেখিয়ে লাখো ভক্তের মন জয় করে নিজেদের আসন পাকাপোক্ত করেছেন, তেমনি একটা সময় ছিল কেবলই পেলেময়। ব্রাজিলের কালো মানিক খ্যাত পেলে সাও পাওলোর আলবার্ট আইনষ্টাইন হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করলেও তিনি অনন্তকাল বেঁচে থাকবেন মানুষের মনে। কীর্তিমানের মৃত্যু নেই।

ক্রীড়াঙ্গন থেকে আরো পড়ুন