বিশ্ব

বার্নহ্যামের সঙ্গে ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ পরিচয়ে প্রতারকের বার্তা বিনিময়

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ ০২:৫৭

ছবি: বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস পরিচয়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। পরে যোগাযোগটি সন্দেহজনক মনে হলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি নিজেকে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। বার্নহ্যাম তার সঙ্গে কয়েকটি বার্তা বিনিময় করেন। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই যোগাযোগটি বৈধ নয় বলে সন্দেহ তৈরি হয়।

ডাউনিং স্ট্রিট এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে তারা মন্তব্য করেন না।

সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বার্নহ্যাম ও ওই ব্যক্তির মধ্যে শুধু লিখিত বার্তা আদান-প্রদান হয়েছিল। কোনো ফোন বা সরাসরি কথোপকথন হয়নি। এছাড়া ওই যোগাযোগে ‘গুরুত্বপূর্ণ কোনো বার্তা’ বিনিময় হয়নি বলেও সূত্র জানিয়েছে।

যোগাযোগটি সন্দেহজনক মনে হওয়ার পর দ্রুতই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। তবে কখন এসব বার্তা পাঠানো হয়েছিল, মোট কতটি বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে কিংবা হোয়াটসঅ্যাপ নাকি অন্য কোনো মাধ্যমে যোগাযোগ হয়েছিল, তা প্রকাশ করা হয়নি।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনাটির সঙ্গে সুসি ওয়াইলসের ফোন হ্যাক হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।

এর আগে ওয়াইলসের ফোন হ্যাক হওয়ার ঘটনা নিয়ে তদন্ত হয়েছিল। ২০২৫ সালের মে মাসে তার ব্যক্তিগত ফোন হ্যাক হওয়ার পর তার ফোনে থাকা যোগাযোগের তালিকা ব্যবহার করে প্রতারকরা যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের কাছে ওয়াইলসের পরিচয়ে বার্তা পাঠিয়েছিল বলে জানা যায়।

ওয়াইলস ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ সালেও ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সাইবার গুপ্তচর ইউনিটের টার্গেটে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে তার নাম ছিল।

ব্রিটিশ সরকারের আরও কয়েকজন মন্ত্রীকে ঘিরেও নিরাপত্তা উদ্বেগ সামনে এসেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, বিচারমন্ত্রী অ্যালেক্স নরিস এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডবিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস ব্রায়ান্টের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছিল। সরকার বর্তমানে সেসব নম্বর সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, সংবেদনশীল তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের ‘শক্তিশালী প্রক্রিয়া’ রয়েছে।

এর আগেও ব্রিটিশ মন্ত্রীরা ভুয়া পরিচয়ে যোগাযোগের শিকার হয়েছেন। ২০২৪ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে ইউক্রেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেঙ্কোর পরিচয়ে এক ব্যক্তি প্রতারণামূলক ফোনকল ও বার্তা আদান-প্রদান করেছিল। বিষয়টি পরে প্রকাশ্যে আনা হয়, যাতে ওই কথোপকথনকে অপব্যবহার বা বিকৃতভাবে উপস্থাপনের সুযোগ না থাকে।

২০২২ সালেও ব্রিটিশ সরকারের দুই মন্ত্রী ইউক্রেনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পরিচয়ে করা ভুয়া ভিডিও কলের টার্গেটে পরিণত হয়েছিলেন।

নতুন এই ঘটনায় বড় কোনো সংবেদনশীল তথ্য আদান-প্রদান হয়নি বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে। তবে একজন সরকারপ্রধানের সঙ্গে বিদেশি রাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তার পরিচয়ে প্রতারকের সরাসরি যোগাযোগের ঘটনা ব্রিটিশ সরকারের যোগাযোগব্যবস্থা ও নিরাপত্তা প্রোটোকল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন