অ্যান্ডি বার্নহ্যাম
যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় থাকা লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সোমবার তাঁর প্রথম বড় রাজনৈতিক ভাষণে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরবেন। তাঁর ঘনিষ্ঠরা এই ভাষণকে সম্ভাব্য সরকারের ‘ভিত্তিপ্রস্তর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ম্যানচেস্টারের পিপলস হিস্ট্রি মিউজিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ভাষণে বার্নহ্যাম বলবেন, যুক্তরাজ্যকে আবারও সঠিক অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে তিনি একটি নতুন রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা দিতে চান। তাঁর ভাষায়, দেশকে বর্তমান সংকট থেকে বের করে আনতে প্রয়োজন একটি ‘সার্কিট ব্রেকার’।
বার্নহ্যামের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার হচ্ছে লন্ডনের হোয়াইটহল থেকে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। তিনি দাবি করছেন, আধুনিক ব্রিটিশ ইতিহাসে এটিই হবে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে স্থানীয় প্রশাসনের হাতে সবচেয়ে বড় ক্ষমতা হস্তান্তরের উদ্যোগ।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি ‘নাম্বার ১০ নর্থ’ নামে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি শাখা ম্যানচেস্টারে প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেবেন। এর লক্ষ্য হবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল, বিশেষ করে লন্ডনের বাইরে উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা।
এছাড়া জ্বালানি, পানি ও পরিবহন খাতে সরকারের আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নেবেন বার্নহ্যাম। তবে এসব খাতে কতটা রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বা জাতীয়করণের পথে হাঁটবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত এখনো স্পষ্ট হয়নি।
এদিকে কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান কেভিন হলিনরেক বার্নহ্যামের পরিকল্পনার সমালোচনা করে বলেছেন, তিনি বাস্তব অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের সমাধানের বদলে কেবল প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তনের কথা বলছেন।
অন্যদিকে বার্নহ্যামের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা নিয়েও জোর আলোচনা চলছে। অর্থমন্ত্রী হিসেবে বর্তমান জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের নাম বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড মিলিব্যান্ডের নামও আলোচনায় উঠে এসেছে। যদিও বার্নহ্যামের টিম জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কাউকে কোনো দায়িত্বের প্রস্তাব দেওয়া হয়নি।
আগামী তিন সপ্তাহ বার্নহ্যামের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দলীয় নেতৃত্বের দৌড়ে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না এলে তিনিই যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে। তবে প্রতিরক্ষা ব্যয়, সামাজিক সেবা সংস্কার এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কসহ একাধিক বড় চ্যালেঞ্জ তাঁর সামনে অপেক্ষা করছে।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন