বিশ্ব

বাকিংহাম প্যালেসে আর বসবাস করবেন না ব্রিটেনের রাজা

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬ ০৫:০১

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ১০ বছরের সংস্কারকাজ শেষ হতে চলেছে ব্রিটিশ রাজপরিবারের ঐতিহাসিক বাসভবন বাকিংহাম প্যালেসের। তবে প্রায় ৩৬৯ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে সংস্কার শেষ হলেও সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন না রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলা।

রাজপরিবারের সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বাকিংহাম প্যালেস আগের মতোই রাজকীয় প্রশাসনিক ও আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে। তবে রাজা চার্লসের সরকারি বাসভবন হিসেবে বহাল থাকবে ক্ল্যারেন্স হাউস।

রাজপ্রাসাদ সূত্র জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বাকিংহাম প্যালেস সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য আরও বেশি সময় খোলা রাখা সম্ভব হবে। এতে পর্যটন আয়ও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংস্কার প্রকল্পের আওতায় প্রাসাদের পুরোনো বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, পাইপলাইন, বয়লারসহ বহু অবকাঠামো আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ড ও পানি থেকে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি কমাতেই এই বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

২০০৫ সালে বিয়ের পর থেকে ক্ল্যারেন্স হাউসেই বসবাস করছেন রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলা। রাজপ্রাসাদ বলছে, বয়স ও নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় তারা নতুন করে বাকিংহাম প্যালেসে স্থানান্তর হতে চাননি।

তবে রাষ্ট্রীয় ভোজ, বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের সংবর্ধনা, প্রধানমন্ত্রী ও কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকসহ গুরুত্বপূর্ণ সব রাজকীয় অনুষ্ঠান আগের মতোই বাকিংহাম প্যালেসে অনুষ্ঠিত হবে।

রাজপ্রাসাদের এক মুখপাত্র বলেন, রাজা চার্লসের কাছে বাকিংহাম প্যালেসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। ভবিষ্যতেও এটি ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের প্রধান আনুষ্ঠানিক কেন্দ্র হিসেবেই থাকবে।

একই প্রতিবেদনে আরও জানা গেছে, রাজা চার্লস প্রথম ব্রিটিশ সম্রাট হিসেবে নিজের কর পরিশোধের তথ্য প্রকাশ করেছেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তিনি ১ কোটি ২৯ লাখ পাউন্ড কর পরিশোধ করেছেন।

১৮৩৭ সালে রানি ভিক্টোরিয়া প্রথম ব্রিটিশ সম্রাট হিসেবে বাকিংহাম প্যালেসকে সরকারি রাজপ্রাসাদ হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন। এরপর থেকে প্রায় দুই শতাব্দী ধরে এটি ব্রিটিশ সম্রাটদের প্রধান বাসভবন হিসেবে পরিচিত। তাই রাজা চার্লসের এই সিদ্ধান্তকে ব্রিটিশ রাজপরিবারের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন