ইংল্যান্ডের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৭-৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে
যুক্তরাজ্যে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে শত শত স্কুল আংশিক বা পূর্ণ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন রেল অপারেটর জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) ইংল্যান্ডের সারের উইজলিতে সর্বোচ্চ ৩৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। স্কটল্যান্ডে এ বছরের সর্বোচ্চ ২৯ ডিগ্রি এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডে ২৮ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। ওয়েলসেও তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৩২ দশমিক ২ ডিগ্রিতে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর মেট অফিস জানিয়েছে, বুধবার দক্ষিণ ইংল্যান্ডের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। বুধবার সকাল ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার রাত ৯টা পর্যন্ত ইংল্যান্ডের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চল এবং দক্ষিণ ওয়েলসের কিছু এলাকায় বিরল ‘রেড এক্সট্রিম হিট ওয়ার্নিং’ কার্যকর থাকবে।
এই সতর্কতার অর্থ হলো, তীব্র গরমের কারণে মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। উচ্চ আর্দ্রতার কারণে অনুভূত তাপমাত্রা প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি হবে। উদাহরণ হিসেবে, কোথাও তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি হলেও তা ৪১ ডিগ্রির মতো অনুভূত হতে পারে।
মেট অফিস সতর্ক করে জানিয়েছে, অতিরিক্ত গরমে গুরুতর অসুস্থতা, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন, এমনকি প্রাণহানির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। এছাড়া সমুদ্র সৈকত, নদী ও লেক এলাকায় মানুষের ভিড় বাড়ায় পানিতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা (ইউকেএইচএসএ) বুধবার রাত ১টা থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১১টা পর্যন্ত ‘রেড হিট-হেলথ অ্যালার্ট’ জারি করেছে। সংস্থাটির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অধ্যাপক রবিন মে বলেন, এটি ২০২২ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো জারি করা সর্বোচ্চ সতর্কতা।
তার ভাষায়, ‘এই সতর্কতা শুধু বয়স্ক বা অসুস্থদের জন্য নয়। সুস্থ ও কর্মক্ষম মানুষও এই তাপপ্রবাহে জীবনঝুঁকিতে পড়তে পারেন।’
তীব্র গরমের কারণে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ৩০০টিরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আংশিক বা পূর্ণ বন্ধের পরিকল্পনা করেছে। অনেক স্কুল বুধবার ও বৃহস্পতিবার আগেভাগেই ছুটি দেবে। কোথাও কোথাও শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক ইউনিফর্ম শিথিল করা হয়েছে এবং তাদের খেলাধুলার পোশাক পরে আসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
পরিবহন খাতেও এর প্রভাব পড়েছে। যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় রেল অপারেটর জিটিআর জানিয়েছে, বুধবার ও বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গ্যাটউইক এক্সপ্রেস সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন রুটে ট্রেনের গতি কমানো এবং ট্রেনসংখ্যা হ্রাস করা হবে।
অ্যাভান্টি ওয়েস্ট কোস্ট ও চিলটার্ন রেলওয়েও তাদের সেবায় বড় ধরনের কাটছাঁটের ঘোষণা দিয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, অতিরিক্ত তাপে রেললাইন বাঁকতে পারে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও ঝুঁকির মুখে পড়ে।
সড়ক পরিবহনেও সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে মোটরিং সংস্থা আরএসি। তাদের ধারণা, অতিরিক্ত গরমের কারণে গাড়ি বিকল হওয়ার ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।
এদিকে লন্ডন ও উইন্ডসরে অনুষ্ঠিতব্য ঐতিহ্যবাহী সামরিক গার্ড পরিবর্তন অনুষ্ঠানও তিন দিনের জন্য বাতিল করা হয়েছে, যাতে সৈনিক, ঘোড়া এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, যুক্তরাজ্য ১৯৭৬ সালের জুন মাসের সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙার পথে রয়েছে। তবে ২০২২ সালে রেকর্ড হওয়া দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ ৪০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আপাতত নেই।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পর্যাপ্ত পানি পান, সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা এবং শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের প্রতি বিশেষ নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন