নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দারুণ সূচনা করেছে স্বাগতিক মেক্সিকো। ‘এ’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে লাতিন আমেরিকার দলটি। তবে ম্যাচটি শুধু মেক্সিকোর জয়ের জন্যই নয়, তিনটি লাল কার্ডের কারণে উত্তেজনাপূর্ণ এক লড়াই হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মেক্সিকো। এর ফলও পেয়ে যায় দ্রুত। নবম মিনিটে এরিক লিরার বাড়ানো বল থেকে জুলিয়ান কুইনোনেস গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন। তার এই গোলই ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম গোল হিসেবে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেয়।
বিরতির পর দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। ৪৯তম মিনিটে স্ফেফেলো সিতোলে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আফ্রিকান প্রতিনিধিরা। সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে মেক্সিকো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয়।
৬৭তম মিনিটে রাউল জিমেনেসের দুর্দান্ত হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। রোবার্তো আলভারাদোর নিখুঁত ক্রস থেকে গোল করে মেক্সিকোর জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেন অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড।
যোগ করা সময়ে মেক্সিকোর সেজার মন্তেস লাল কার্ড দেখলেও ম্যাচের ফলাফলে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। শেষ বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে দক্ষিণ আফ্রিকার আরেক খেলোয়াড়ও লাল কার্ড দেখায় ম্যাচটি তিন লাল কার্ডের এক নাটকীয় লড়াইয়ে পরিণত হয়।
পরিসংখ্যানেও ছিল মেক্সিকোর পূর্ণ আধিপত্য। ম্যাচে ৬২ শতাংশ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল তাদের পায়ে। গোলমুখে ১৬টি শট নেয় স্বাগতিকরা, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকার শট মাত্র ৩টি। প্রতিপক্ষের বক্সে মেক্সিকোর প্রবেশ ছিল ২০ বার, আর দক্ষিণ আফ্রিকা তা করতে পেরেছে মাত্র ২ বার।
প্রায় ৮৩ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে গ্যালারির অধিকাংশ আসন পূর্ণ ছিল। সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের মধ্যেই বিশ্বকাপ মিশনের স্বপ্নময় সূচনা করল মেক্সিকো। উল্লেখ্য, ২০১০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। সেবার ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল।
ক্রীড়াঙ্গন থেকে আরো পড়ুন