প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬ ০২:২৯
ছবি: বিবিসি
ইউরোপে মার্কিন সেনা মোতায়েন নিয়ে মিত্র দেশগুলোর উদ্বেগের মধ্যে ন্যাটো সদস্যদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সম্প্রতি পোল্যান্ডে অতিরিক্ত সেনা পাঠানো, জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহার এবং আগের একটি মোতায়েন পরিকল্পনা বাতিলের পর ন্যাটো জোটে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
সুইডেনে অনুষ্ঠিত ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও বলেন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিতভাবেই ইউরোপে নিজেদের সেনা উপস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, পোল্যান্ডে অতিরিক্ত ৫ হাজার সেনা পাঠাবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে দেশটিতে ৪ হাজার সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা বাতিল করেছিল পেন্টাগন। একই সময়ে জার্মানি থেকেও কয়েক হাজার মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা আসে।
এই পরস্পরবিরোধী সিদ্ধান্তে ন্যাটোর মিত্র দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়। সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমার স্টেনারগার্ড বলেন, “পরিস্থিতি সত্যিই বিভ্রান্তিকর এবং বোঝা সহজ নয়।”
তবে মার্কো রুবিও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপগুলো মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করেই নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “ন্যাটো জোট জানে যে ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতিতে কিছু সমন্বয় আসবে। বিষয়টি নতুন নয়।”
মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং ইরান ইস্যুতে সামরিক চাপ বাড়ায় বিশ্বজুড়ে সেনা মোতায়েন নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির অংশ হিসেবেই ইউরোপে দীর্ঘদিনের মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানোর ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর চাপও বাড়ছে।
বর্তমানে ইউরোপে সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে জার্মানিতে, যেখানে প্রায় ৩৬ হাজার সেনা মোতায়েন আছে। এছাড়া ইতালিতে ১২ হাজার, যুক্তরাজ্যে ১০ হাজার এবং পোল্যান্ডে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে।
ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, “ইউরোপকে ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতেই হবে।”
এদিকে ট্রাম্প আবারও ন্যাটো সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তার অভিযোগ, ইউরোপের অনেক দেশ এখনও নিজেদের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন