যুক্তরাজ্যে নিট অভিবাসনের সংখ্যা এক বছরের ব্যবধানে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। নতুন সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে দেশটির জনসংখ্যায় অভিবাসনের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার মানুষ, যা আগের বছরের তুলনায় অনেক কম।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মহামারিকাল বাদ দিলে এটি ২০১২ সালের পর সর্বনিম্ন নিট অভিবাসন।
তবে এই হ্রাসের পরও প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, “এখনও আরও অনেক কিছু করার বাকি আছে।”
প্রকাশিত তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যে দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের উদ্দেশ্যে ৮ লাখের কিছু বেশি মানুষ প্রবেশ করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কম। অন্যদিকে একই সময়ে প্রায় ৬ লাখ ৪২ হাজার মানুষ যুক্তরাজ্য ছেড়ে অন্য দেশে চলে গেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন কমার পেছনে মূল কারণ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলো থেকে কর্মসংস্থানের জন্য আগত মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়া।
বিশেষ করে বিদেশি শিক্ষার্থী ও কেয়ার ওয়ার্কারদের পরিবারের সদস্য আনার ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ, দক্ষ কর্মীদের ভিসার ন্যূনতম বেতনসীমা বৃদ্ধি এবং পারিবারিক ভিসার আয়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বড় প্রভাব ফেলেছে।
সরকার জানিয়েছে, তারা “বিদেশি শ্রমিক নির্ভরতা কমিয়ে দক্ষতাভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থা” চালু করতে চায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ দাবি করেছেন, নতুন পরিসংখ্যান প্রমাণ করে সরকার সীমান্তে “শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ” ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।
তবে বিরোধীরা বলছে, অভিবাসন কমলেও পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলিপ বলেছেন, “অভিবাসন এখনও অনেক বেশি। আরও কঠোর পদক্ষেপ দরকার।”
এদিকে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যাও কমেছে। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে ৯৩ হাজার ৫২৫ জন যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১২ শতাংশ কম। তবে মহামারির আগের সময়ের তুলনায় এটি এখনও দ্বিগুণেরও বেশি।
অবৈধ পথে প্রবেশকারীদের মধ্যে ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়া মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে অবৈধ পথে শনাক্ত হওয়া ৪৩ হাজার ৮০৬ জনের প্রায় ৯০ শতাংশই ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিবাসন গবেষক বেন ব্রিন্ডল বলেন, অর্থনৈতিকভাবে ইতিবাচক অবদান রাখা অভিবাসীদের সংখ্যা কমলেও আশ্রয়ভিত্তিক অভিবাসন এখনও বেশি রয়েছে। ফলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রভাব আগের তুলনায় কম ইতিবাচক হতে পারে।
অন্যদিকে সরকারের নতুন পরিকল্পনায় অভিবাসীদের জন্য ইংরেজি ভাষাজ্ঞান আরও কঠোর করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে দক্ষ কর্মী ভিসার জন্য ন্যূনতম বেতনসীমাও আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছে লন্ডন।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন