প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬ ১৬:২৫
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করতে এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ভুক্তভোগী পরিবারের হতাশার একমাত্র জবাব হতে পারে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনমন্ত্রী এ কথা জানান।
তিনি বলেন, “আজ অফিসে এসেই পুলিশ কমিশনারকে ফোন করেছি। বলেছি, এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে। স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গেও কথা হয়েছে। সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।”
আইনমন্ত্রী বলেন, শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডে জনগণের মধ্যে যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা সরকার উপলব্ধি করছে। তিনি জানান, বিচারপ্রক্রিয়া প্রত্যাশিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত আসিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, ওই মামলায় সাত দিনের মধ্যে চার্জশিট এবং এক মাসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করা হয়েছিল। তবে অতিরিক্ত তাড়াহুড়া করলে বিচারপ্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
তিনি বলেন, “রামিসা ও আসিয়ার মামলার মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। মেজর সিনহা ও আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার ক্ষেত্রেও দ্রুত পেপার বুক প্রস্তুতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।”
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ট্রায়াল কোর্টের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্স সুপ্রিম কোর্টে পাঠাতে হয় এবং সেখানে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। ফলে বিচারিক কার্যক্রমে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, সরকার পাবলিক প্রসিকিউটরদের দ্রুত বিচার নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে পারে, তবে আদালতের স্বাধীন বিচারিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করবে না।
রামিসা হত্যা মামলার বিচার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হবে বলেও জানান আইনমন্ত্রী।
দেশে বিচারাধীন মামলার জট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এত বিপুল মামলার চাপ একদিনে কমানো সম্ভব নয়, তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে।
এদিকে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ধর্ষণ বা নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা কোনোভাবেই রাজনৈতিক মামলা হিসেবে বিবেচিত হবে না এবং এসব মামলা প্রত্যাহারের সুযোগ নেই।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন