ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে ডিম, দুধ, পাউরুটির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বড় বড় সুপারমার্কেটগুলোর ওপর চাপ বাড়াচ্ছে সরকার। তবে বাধ্যতামূলকভাবে মূল্য নির্ধারণ নয়, স্বেচ্ছায় দাম স্থির রাখার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
ব্রিটিশ সরকারের ট্রেজারি বিভাগের সঙ্গে দেশটির বড় খুচরা বিক্রেতাদের একাধিক বৈঠক হয়েছে। সেখানে কিছু প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য না বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়। বিনিময়ে প্যাকেজিং সংক্রান্ত কিছু নিয়ম শিথিল এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যনীতি বাস্তবায়নে সময় বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
তবে সরকারের এই উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করেছে সুপারমার্কেট খাত। মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সারের প্রধান নির্বাহী স্টুয়ার্ট মেশিন প্রস্তাবটিকে “সম্পূর্ণ হাস্যকর” বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেন, “সরকার যদি সত্যিই মানুষের খরচ কমাতে চায়, তাহলে ব্যবসার ওপর কর ও অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ কমানো উচিত।”
অন্যদিকে অনলাইন সুপারমার্কেট প্রতিষ্ঠান ওকাডোর সাবেক চেয়ারম্যান লর্ড স্টুয়ার্ট রোজ বলেন, “এ ধরনের চিন্তা রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের মতো। এটি বিপজ্জনক এবং বাস্তবসম্মত নয়।”
সেইন্সবারির সাবেক প্রধান নির্বাহী জাস্টিন কিংও সরকারের সমালোচনা করে বলেন, একদিকে সরকারি নীতির কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, অন্যদিকে সুপারমার্কেটকে দাম না বাড়ানোর চাপ দেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ শতাংশে পৌঁছেছে। যা দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির হার ২ দশমিক ৮ শতাংশের চেয়েও বেশি। খাতসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, বছরের শেষ দিকে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ইরান ঘিরে অস্থিরতার কারণে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সার ও পশুখাদ্যের দাম বাড়ায় খাদ্যপণ্যের উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে।
ব্রিটিশ রিটেইল কনসোর্টিয়ামের প্রধান হেলেন ডিকিনসন বলেন, “সত্তরের দশকের মতো মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চাপিয়ে দিলে ব্যবসাগুলো ক্ষতির মুখে পড়বে। বরং সরকারকে উৎপাদন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে।”
এদিকে ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস জানিয়েছেন, বৈশ্বিক সংকটকে পুঁজি করে কেউ অতিরিক্ত মুনাফা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এজন্য প্রতিযোগিতা ও বাজার নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে আরও ক্ষমতা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।
নতুন ব্যবস্থায় কোনো প্রতিষ্ঠান অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়ালে দ্রুত তদন্ত চালানো এবং প্রকাশ্যে তাদের নাম প্রকাশ করার ক্ষমতা পাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: বিবিসি।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন