যুক্তরাজ্যের ব্রাইটন সমুদ্রসৈকতের কাছে সমুদ্রে প্রাণ হারানো তিন নারী ছিলেন একই পরিবারের তিন বোন। নিহতদের বাবা জোসেফ আদেতোরো মেয়েদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, “আমার জীবনের আলো নিভে গেছে।”
নিহত তিন বোন হলেন জেন আদেতোরো (৩৬), ক্রিস্টিনা ওয়াল্টার্স (৩২) এবং রেবেকা ওয়াল্টার্স (৩১)। তারা লন্ডনের অক্সব্রিজ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
গত ১৩ মে ভোরে ব্রাইটনের মাদেইরা ড্রাইভ এলাকার ব্ল্যাক রক কার পার্ক সংলগ্ন সমুদ্র থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে জরুরি সেবাকর্মীরা। প্রথমে একজনকে পানিতে দেখা যাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ ও কোস্টগার্ড। পরে কাছাকাছি এলাকা থেকে আরও দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতদের বাবা এক আবেগঘন বিবৃতিতে বলেন, “তোমাদের হারানোর যন্ত্রণা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। জেন, ক্রিস্টিনা আর বেকি শুধু আমার মেয়ে ছিল না, তারা ছিল আমার আনন্দ, শক্তি আর আমাদের পরিবারের ভালোবাসার আলো।”
তিনি আরও বলেন, “তোমাদের হাসি অন্ধকার দিনগুলো আলোকিত করত। তোমাদের স্মৃতি আজীবন আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।”
সাসেক্স পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে তা জানতে তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত তৃতীয় পক্ষের সম্পৃক্ততা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞ তদন্তকারীরা ঘটনাটির পূর্ণ রহস্য উদঘাটনে কাজ করছেন।
পুলিশের ধারণা, তিন বোন হয়তো সৈকত থেকে সমুদ্রে নেমেছিলেন এবং পরে বিপদে পড়েন। তদন্তে জানা গেছে, তাদের প্রথমে ব্রাইটন প্যালেস পিয়ারের কাছে দেখা গিয়েছিল। পরে স্রোতে ভেসে তারা ব্রাইটন মেরিনার দিকে চলে যান।
এ ঘটনায় পুরো ব্রাইটনজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাটিকে “হৃদয়বিদারক” বলে উল্লেখ করেছেন।
ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ সিটি কাউন্সিলের নেতা বেলা স্যাঙ্কি বলেন, “তিনজনই যে আপন বোন ছিলেন, সেটি জানার পর ঘটনাটি আরও বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে।”
এদিকে পুলিশ শত শত ঘণ্টার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছে এবং ঘটনার আগে তিন বোনের গতিবিধি জানার চেষ্টা চালাচ্ছে। তথ্য থাকলে জনগণকে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন