থাইল্যান্ডে ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধা নিয়ে বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। পর্যটকদের জন্য চালু থাকা ৬০ দিনের ভিসামুক্ত অবস্থানের সুযোগ কমিয়ে আবার ৩০ দিনে নামিয়ে আনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে থাই মন্ত্রিসভা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সসহ একাধিক থাই ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
থাইল্যান্ড সরকার জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি ভিসামুক্ত সুবিধার অপব্যবহার ঠেকাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অবৈধ ব্যবসা, অনুমতি ছাড়া কাজ করা, অনলাইন প্রতারণা চক্র এবং মানবপাচারের মতো কর্মকাণ্ডে বিদেশিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ বাড়তে থাকায় কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে।
থাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পর্যটন খাতকে চাঙা করতে ৯৩টি দেশের নাগরিকদের জন্য ৬০ দিনের ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধা চালু করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বেশিরভাগ পর্যটক ৩০ দিনের মধ্যেই দেশ ত্যাগ করেন, অথচ দীর্ঘ সময়ের সুযোগকে কিছু গোষ্ঠী অবৈধ কাজে ব্যবহার করছে।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভিসামুক্ত প্রবেশের মেয়াদ ৩০ দিনে নামিয়ে আনা হবে। কিছু দেশের ক্ষেত্রে স্থলসীমান্ত দিয়ে বছরে প্রবেশের সংখ্যাও সীমিত করা হতে পারে। এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য আরও কম সময়ের সীমা নির্ধারণের আলোচনাও চলছে বলে জানিয়েছে থাই গণমাধ্যম।
তবে এখনো নতুন নিয়ম কার্যকরের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করেনি ব্যাংকক। বর্তমানে পুরোনো ৬০ দিনের ব্যবস্থাই কার্যকর রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, থাইল্যান্ড একদিকে পর্যটন খাত সচল রাখতে চায়, অন্যদিকে নিরাপত্তা ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতেও চাপের মুখে রয়েছে। দেশটির অর্থনীতির বড় অংশই পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। অথচ চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বিদেশি পর্যটক আগমন কমেছে বলেও সরকারি তথ্য বলছে।
এদিকে থাইল্যান্ডে বসবাসরত প্রবাসী ও দীর্ঘমেয়াদি পর্যটকদের মধ্যে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় অবস্থান বা একাধিকবার সীমান্ত পারাপারের মাধ্যমে অবস্থান বাড়াতেন, তাদের জন্য নতুন নিয়ম বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন