বিশ্ব

নেতৃত্বের পরীক্ষায় ব্রিটেন

ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির গৃহবিবাদ চরমে

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ ০৪:৩৫

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারকে ঘিরে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভেতরের সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। দলীয় বিদ্রোহ, মন্ত্রীদের পদত্যাগ এবং নেতৃত্ব পরিবর্তনের জোরালো আলোচনা চলার মধ্যেই সংস্কৃতিমন্ত্রী লিসা ন্যান্ডি বলেছেন, সম্ভাব্য নেতৃত্ব প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন কি না, সেটি স্টারমারের “ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত”।

রোববার বিবিসির এক অনুষ্ঠানে ন্যান্ডি বলেন, “স্টারমার আগেও দেখিয়েছেন তিনি লড়াই করতে প্রস্তুত। আমি তাকে এত সহজে বাদ দিচ্ছি না।”

গত কয়েকদিনে প্রায় ৯০ জন লেবার এমপি স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে পাঁচজন মন্ত্রীও পদত্যাগ করেছেন, যা ব্রিটিশ রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে।

এর মধ্যেই গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম আবারও জাতীয় রাজনীতিতে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে লেবার প্রার্থী হতে চান এবং জিতলে স্টারমারের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লিসা ন্যান্ডি বার্নহ্যামের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, “ওয়েস্টমিনস্টারের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের মতো কণ্ঠস্বর প্রয়োজন।”

এদিকে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংও জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে নেতৃত্ব নির্বাচন হলে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ফলে লেবার পার্টির ভেতরে নেতৃত্বের দৌড় এখন আরও প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবির পর থেকেই স্টারমারের নেতৃত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। দলটির ভেতরে একাংশ মনে করছে, জনগণের সঙ্গে সংযোগ হারাচ্ছে লেবার এবং এর দায় নেতৃত্বকেই নিতে হবে।

তবে স্টারমারের সমর্থকরা বলছেন, তিনি এখনও দলের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মুখ এবং সম্ভাব্য নেতৃত্ব প্রতিযোগিতায় লড়াই করতে প্রস্তুত।

এদিকে মেকারফিল্ড উপনির্বাচনকে এখন লেবার পার্টির জন্য বড় রাজনৈতিক পরীক্ষার হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলটির নেতারা আশঙ্কা করছেন, এই আসনে পরাজয় হলে স্টারমারের নেতৃত্ব আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটিশ রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—স্টারমার কি দলীয় বিদ্রোহ সামলে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন, নাকি লেবারের ভেতর থেকেই নতুন নেতৃত্ব উঠে আসবে।

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন