বিশ্ব

বেইজিংয়ে ট্রাম্পকে রাজকীয় অভ্যর্থনা

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬ ০৪:১০

চীনে সফরের প্রথম দিনেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজকীয় অভ্যর্থনা জানিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠিত বহুল আলোচিত এই শীর্ষ বৈঠকে একদিকে ছিল কূটনৈতিক সৌজন্য ও বাণিজ্যিক বার্তা, অন্যদিকে তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছে বেইজিং।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই নেতার বক্তব্য ও আচরণে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতা। সফরের শুরুতেই সামরিক কুচকাওয়াজ, শিশুদের হাতে মার্কিন পতাকা ও আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার মাধ্যমে ট্রাম্পকে স্বাগত জানানো হয়।

অভ্যর্থনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, এমন আয়োজন খুব কমই দেখা যায়। বিশেষ করে শিশুদের উপস্থিতি তাকে মুগ্ধ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে বৈঠকের মূল আলোচনায় উঠে আসে তাইওয়ান, বাণিজ্য, ভূরাজনীতি ও ভবিষ্যৎ শক্তির ভারসাম্যের প্রশ্ন। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, তাইওয়ান ইস্যু ভুলভাবে মোকাবিলা করা হলে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাত তৈরি হতে পারে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার বরাতে জানা যায়, শি জিনপিং বৈঠকে “থুসিডাইডিস ট্র্যাপ”-এর প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইতিহাসে উদীয়মান শক্তি ও প্রতিষ্ঠিত শক্তির সংঘাত বিশ্বকে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ঠেলে দিয়েছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র যেন সেই পথে না হাঁটে, সে আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে ট্রাম্প তার বক্তব্যে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে সফরটিকে “ঐতিহাসিক” বলে আখ্যা দেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের এই সফরে নিয়ে আসা হয়েছে চীনের সঙ্গে নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরির জন্য।

ট্রাম্পের সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন অ্যাপলের টিম কুক, টেসলার ইলন মাস্ক ও এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াংয়ের মতো প্রযুক্তি ও ব্যবসা জগতের শীর্ষ ব্যক্তিরা। যদিও ট্রাম্প দাবি করেন, ৩০ জন শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধি সফরে অংশ নিয়েছেন।

এদিকে ট্রাম্পের ছেলে এরিক ট্রাম্পের উপস্থিতিও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ বর্তমানে ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্ব তার হাতেই রয়েছে। সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন, প্রেসিডেন্টের সরকারি সফরের সঙ্গে পারিবারিক ব্যবসায়িক স্বার্থ জড়িত কি না। তবে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন জানিয়েছে, এরিক ট্রাম্প কেবল ব্যক্তিগতভাবে সফরে অংশ নিয়েছেন, চীনে তার কোনো ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকে প্রকাশ্যে কূটনৈতিক সৌজন্য দেখা গেলেও ভেতরে ভেতরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে তাইওয়ান, প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও সামরিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পরাশক্তির সম্পর্ক নতুন এক জটিল পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন