বিশ্ব

হান্টাভাইরাস আতঙ্কে আরও ১০ জনকে আটলান্টিক থেকে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ ০৪:১৭

ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি সেন্ট হেলেনা

হান্টাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি সেন্ট হেলেনা ও অ্যাসেনশন আইল্যান্ড থেকে আরও ১০ জনকে যুক্তরাজ্যে আনা হচ্ছে। তারা হয় ভাইরাস আক্রান্ত এমভি হন্ডিয়াস ক্রুজ জাহাজে ছিলেন, নয়তো আক্রান্ত যাত্রীদের সংস্পর্শে এসেছিলেন।

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএইচএসএ জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের যুক্তরাজ্যে এনে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের কারও শরীরে উপসর্গ দেখা যায়নি।

বর্তমানে ইংল্যান্ডের মার্সিসাইডের অ্যারো পার্ক হাসপাতালে জাহাজ থেকে সরিয়ে আনা যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ চলছে। সেখানে ২০ জন ব্রিটিশ নাগরিক, যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী একজন জার্মান নাগরিক এবং একজন জাপানি যাত্রীকে ৭২ ঘণ্টার আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাসপাতালের পর্যবেক্ষণ শেষে তাদের আরও ৪৫ দিন পর্যন্ত বাড়িতে স্বেচ্ছা আইসোলেশনে থাকতে বলা হতে পারে।

ইউকেএইচএসএর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অধ্যাপক রবিন মে বলেছেন, হাসপাতালে থাকা যাত্রীরা বর্তমানে সুস্থ এবং কারও মধ্যে উপসর্গ নেই। তিনি জানান, পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বলেছেন, “এখন পর্যন্ত বড় ধরনের বৈশ্বিক প্রাদুর্ভাবের লক্ষণ নেই।” তবে ভাইরাসটির দীর্ঘ ইনকিউবেশন পিরিয়ড থাকায় আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এই প্রাদুর্ভাবে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের শরীরে হান্টাভাইরাস নিশ্চিত করা হয়। নিহতদের মধ্যে একজন বৃদ্ধ ডাচ নাগরিক, তার স্ত্রী এবং এক জার্মান নারী রয়েছেন।

ডাচ মালিকানাধীন এমভি হন্ডিয়াস জাহাজটি গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করে। জাহাজটিতে ২৮টি দেশের প্রায় ১৫০ যাত্রী ও ক্রু সদস্য ছিলেন।

ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর জাহাজটি স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছায়। এরপর ধাপে ধাপে যাত্রীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

বর্তমানে জাহাজটিতে ২৫ জন ক্রু সদস্য, দুইজন চিকিৎসাকর্মী এবং মৃত এক জার্মান যাত্রীর মরদেহ রয়েছে। জাহাজটি জীবাণুমুক্ত করার জন্য নেদারল্যান্ডসের পথে রয়েছে।

অন্যদিকে দক্ষিণ আটলান্টিকের প্রত্যন্ত ট্রিস্টান দা কুনহা দ্বীপে অবস্থানরত এক ব্রিটিশ নাগরিকের মধ্যেও সন্দেহজনক হান্টাভাইরাস সংক্রমণ পাওয়া গেছে। তিনি বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় আইসোলেশনে আছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি এখনো কম হলেও আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন