স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ, ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে ঘিরে লেবার পার্টির ভেতরের সংকট আরও গভীর হয়েছে। স্থানীয় নির্বাচন ও আঞ্চলিক ভোটে বড় ধরণের ভরাডুবির পর এবার মন্ত্রিসভার ভেতরেও প্রকাশ্য বিভাজনের খবর সামনে এসেছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদসহ কয়েকজন মন্ত্রী স্টারমারকে পদত্যাগের একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও মন্ত্রিসভার বড় একটি অংশ এখনো তার নেতৃত্ব ধরে রাখার পক্ষে রয়েছে।
বর্তমানে লেবার পার্টির অন্তত ৭১ জন এমপি প্রকাশ্যে স্টারমারের পদত্যাগ অথবা পদত্যাগের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি তুলেছেন। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে লেবারের মোট এমপি সংখ্যা ৪০৩।
বিবিসির রাজনৈতিক সম্পাদক ক্রিস ম্যাসন জানিয়েছেন, সোমবার রাতজুড়ে মন্ত্রীরা ডাউনিং স্ট্রিটে বৈঠক করেছেন। কেউ স্টারমারের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করেছেন, আবার কেউ সরাসরি বলেছেন যে পার্লামেন্টারি দলের বাস্তবতা বুঝে তাকে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে।
তিনি বলেন, “মঙ্গলবার লেবার সরকারের জন্য এক অসাধারণ রাজনৈতিক দিন হতে যাচ্ছে।”
এদিকে চারজন লেবার এমপি ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভার সহকারী পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং নতুন নেতৃত্বের দাবিতে যোগ দিয়েছেন। এতে স্টারমারের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
অন্যদিকে স্টারমার এখনো পদ ছাড়ার কোনো ইঙ্গিত দেননি। সোমবার তিনি বলেছেন, “সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করবো।” একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন যে তার সরকার কিছু ভুল করেছে, তবে “বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো সঠিক ছিল” বলেও দাবি করেন।
লেবার ব্যাকবেঞ্চ এমপি ক্যাথরিন ওয়েস্ট প্রথমে স্টারমারের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ আনার হুমকি দিলেও পরে সরে দাঁড়ান। তবে তিনি জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্টারমারের সরে যাওয়া উচিত।
লেবারের ভেতরে সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সাবেক ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের নাম আলোচনায় রয়েছে।
তবে দলটির একাংশ মনে করছে, এখন নেতৃত্ব পরিবর্তনের লড়াই শুরু হলে তা সরকারের স্থিতিশীলতাকে আরও দুর্বল করবে এবং বিরোধী দলগুলোকে শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ করে দেবে।
স্থানীয় নির্বাচনে লেবারের বড় ধরণের পরাজয় এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইংল্যান্ডে দলটি প্রায় দেড় হাজার কাউন্সিলর হারিয়েছে। ওয়েলসে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্যও হাতছাড়া হয়েছে। স্কটল্যান্ডেও দলটির ফলাফল ছিল হতাশাজনক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমারের নেতৃত্ব এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখে। মঙ্গলবারের মন্ত্রিসভার বৈঠক ও আসন্ন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোই নির্ধারণ করতে পারে যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার সরকারের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন