বিশ্ব

ইরানের জবাবকে "অগ্রহণযোগ্য" অভিহিত করে প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ ০৪:৩১

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি।

ইরানের পাঠানো আনুষ্ঠানিক জবাবকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলমান সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান নিজেদের অবস্থান জানালেও ওয়াশিংটন সেটিকে সন্তোষজনক মনে করছে না। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

বিবিসি ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানের জবাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছানো হয়। তবে সেই জবাবের পূর্ণ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। পরে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। যদিও বিভিন্ন পক্ষ যুদ্ধবিরতি মোটামুটি মেনে চলছে, তবুও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছিলেন, “ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হবে।” তবে একই সময়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ বলা যাবে না।

এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, “এখনও এমন কিছু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র রয়েছে, যেগুলো ভেঙে ফেলতে হবে।”

অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রোববার বলেন, “আমরা কখনোই শত্রুর সামনে মাথা নত করবো না। আলোচনা মানে আত্মসমর্পণ নয়।”

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে ১৪ দফার একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখা, হরমুজ প্রণালিতে অবাধ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং বিনিময়ে কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তবে সূত্রগুলো বলছে, এসব শর্ত বাস্তবায়ন নির্ভর করবে চূড়ান্ত চুক্তির ওপর। ইরান এসব শর্তের কিছু অংশে আপত্তি জানিয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক সংঘাত আপাতত কমলেও পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বিরোধ এখনো গভীর সংকটের মধ্যেই রয়েছে।

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন