বিশ্ব

হান্টাভাইরাস আতঙ্ক

ক্রুজ জাহাজ থেকে ফেরত আনা হলো ২০ ব্রিটিশ নাগরিককে

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ ০৪:১৯

ছবি: বিবিসি

হান্টাভাইরাস সংক্রমণে আক্রান্ত ক্রুজ জাহাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া ২০ ব্রিটিশ নাগরিক বিশেষ ফ্লাইটে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন। রোববার (১০ মে) সন্ধ্যায় স্পেনের টেনেরিফ থেকে চার্টার্ড বিমানে তারা ম্যানচেস্টার বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের সরাসরি ইংল্যান্ডের মার্সিসাইডের উইরালের অ্যারো পার্ক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাদের ৭২ ঘণ্টা আইসোলেশনে রাখা হবে। পরে আরও ৪২ দিন বাড়িতে স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা (ইউকেএইচএসএ) জানিয়েছে, বিমানে থাকা কোনো ব্রিটিশ নাগরিকের শরীরে এখন পর্যন্ত উপসর্গ পাওয়া যায়নি। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সবাইকে পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। সাধারণ জনগণের জন্য ঝুঁকি এখনো “খুবই কম” বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ছয়জনের শরীরে হান্টাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন মারা গেছেন। আক্রান্তদের মধ্যে দুইজন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন, যারা বর্তমানে নেদারল্যান্ডস ও দক্ষিণ আফ্রিকায় চিকিৎসাধীন।

হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণী থেকে ছড়ায়। তবে এই ঘটনায় শনাক্ত হওয়া অ্যান্ডিস স্ট্রেইনের ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হতে পারে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

রোববার সকালে ক্রুজ জাহাজটি ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছালে যাত্রীদের বিশেষ সুরক্ষা পোশাক পরিয়ে বাসে করে বিমানবন্দরে নেওয়া হয়। বিমানে ওঠার আগে সবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়।

অ্যারো পার্ক হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী জানেল হোমস বলেন, “যাত্রীরা মানসিকভাবে ভীষণ চাপে রয়েছেন। আমরা তাদের নিরাপদ পরিবেশে চিকিৎসা ও সহায়তা দিচ্ছি।”

তিনি জানান, হাসপাতালের বিশেষ আইসোলেশন ইউনিটে তাদের রাখা হয়েছে। সেখানে ফোনসহ প্রয়োজনীয় সব সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। যেহেতু তারা জাহাজ থেকে খুব কম জিনিসপত্র নিয়ে বের হতে পেরেছেন, তাই নতুন পোশাক ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীও সরবরাহ করা হচ্ছে।

এদিকে উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, অ্যারো পার্ক হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং সাধারণ রোগীদের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার উদ্ধার অভিযানে জড়িত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করেই যাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।”

অন্যদিকে দক্ষিণ আটলান্টিকের প্রত্যন্ত দ্বীপ ট্রিস্টান দা কুনহায় অবস্থানরত এক ব্রিটিশ নাগরিককেও সন্দেহভাজন আক্রান্ত হিসেবে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। তার চিকিৎসা সহায়তায় ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বিশেষ মেডিক্যাল টিম সেখানে পাঠানো হয়েছে।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, আক্রান্ত জাহাজটি এখন নেদারল্যান্ডসের রটারডামের দিকে যাত্রা করবে। সেখানে পুরো জাহাজ জীবাণুমুক্ত করা হবে। বর্তমানে কিছু ক্রু সদস্য ও একজন নার্স এখনও জাহাজে অবস্থান করছেন।

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন