কাতারের জলসীমা ও কুয়েতের আকাশসীমায় পৃথক হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আরব পার্লামেন্ট। সংস্থাটির সভাপতি মোহাম্মদ বিন আহমেদ আল-ইয়ামাহি হামলাগুলোকে সংশ্লিষ্ট দেশের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য “সরাসরি হুমকি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আল-জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রোববার (১০ মে) কাতার সরকার জানায়, দেশটির আঞ্চলিক জলসীমায় চলাচলরত একটি বাণিজ্যিক কার্গো জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর জাহাজটিতে অল্প পরিসরে আগুন লাগলেও দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এতে কোনো হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছে কাতারি কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে একই দিনে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির আকাশসীমায় একাধিক “শত্রুতামূলক ড্রোন” শনাক্ত করা হয়েছে। পরে কুয়েতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সতর্ক অবস্থানে যায় এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শুরু করে। তবে ড্রোনগুলো কোথা থেকে এসেছে বা সেগুলো ভূপাতিত করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এদিকে আরব পার্লামেন্ট এক বিবৃতিতে বলেছে, সাম্প্রতিক এসব হামলা পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক। তারা সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই এই হামলার ঘটনাগুলো ঘটেছে। পশ্চিমা কয়েকটি সূত্র এসব ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করার ইঙ্গিত দিলেও তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগর অঞ্চলে সাম্প্রতিক সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি সামরিক অবস্থানের কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট ও সামুদ্রিক বাণিজ্যপথকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন