যুক্তরাজ্যের স্থানীয় নির্বাচন, স্কটিশ পার্লামেন্ট ও ওয়েলস পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভরাডুবির পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে লেবার পার্টির ভেতরে চাপ আরও বেড়েছে। এবার দলটির এমপি ক্যাথরিন ওয়েস্ট প্রকাশ্যেই স্টারমারের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্যাথরিন ওয়েস্ট বলেন, আগামী সোমবারের মধ্যে মন্ত্রিসভার কেউ যদি স্টারমারের বিরুদ্ধে নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ না ছোড়েন, তাহলে তিনি নিজেই দলীয় নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরুর উদ্যোগ নেবেন।
তিনি জানান, তার পছন্দের পথ হচ্ছে মন্ত্রিসভার ভেতর থেকেই নতুন নেতৃত্ব বেরিয়ে আসা। এতে বড় ধরনের নেতৃত্ব নির্বাচন ছাড়াই দল পুনর্গঠন সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।
ওয়েস্ট বলেন, “দলের ভেতরে অনেক যোগ্য মানুষ আছেন। তারা সামনে এসে নেতৃত্ব নিলে কম ঝামেলায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব।”
তবে তিনি নিজে লেবার নেতা হতে চান না বলেও স্পষ্ট করেন।
বর্তমানে নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হলে লেবার পার্টির অন্তত ২০ শতাংশ এমপির সমর্থন প্রয়োজন। অর্থাৎ ৮১ জন এমপির সমর্থন লাগবে। ওয়েস্ট দাবি করেছেন, ইতোমধ্যে অন্তত ১০ জন এমপি তাকে সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন এবং আরও অনেকে সামনে আসবেন বলে তিনি আশা করছেন।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে লেবার পার্টি বড় ধাক্কা খেয়েছে। ইংল্যান্ডের স্থানীয় কাউন্সিল নির্বাচনে দলটি প্রায় দেড় হাজারের বেশি আসন হারিয়েছে। ওয়েলসে ঐতিহাসিকভাবে শক্ত অবস্থান থাকা সত্ত্বেও এবার তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে লেবার। স্কটল্যান্ডেও দলটি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।
অন্যদিকে রিফর্ম ইউকে ও গ্রিন পার্টির উত্থান ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। বিশেষ করে লন্ডনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গ্রিন পার্টির জয় লেবারের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
যদিও প্রধানমন্ত্রী স্টারমার জানিয়েছেন, তিনি পদ ছাড়বেন না এবং দেশকে “অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে” দিতে চান না। তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন বেশ কয়েকজন মন্ত্রিসভার সদস্যও।
তবে দলটির ভেতরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ জন লেবার এমপি প্রকাশ্যে নেতৃত্ব পরিবর্তন অথবা স্টারমারের সরে যাওয়ার সময়সূচি ঘোষণার দাবি তুলেছেন।
এদিকে সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব হিসেবে কয়েকটি নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যবিষয়ক মন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের নাম বেশি আলোচনায় রয়েছে।
তবে ডাউনিং স্ট্রিটের ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, ক্যাথরিন ওয়েস্টের উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত পর্যাপ্ত সমর্থন পাবে না বলেই তারা মনে করছে।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন