বিশ্ব

ব্রিটেনের স্থানীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভরাডুবি

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ ১৬:৫৭

যুক্তরাজ্যের স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে বড় ধাক্কা খেয়েছে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি। দেশজুড়ে ভোট গণনা চললেও ইতোমধ্যে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন কাউন্সিলে আসন হারাতে শুরু করেছে দলটি। অন্যদিকে ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে, গ্রিন পার্টি এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের উত্থান নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ইংল্যান্ডের ১৩৬টি কাউন্সিলের পাঁচ হাজারের বেশি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। একইসঙ্গে স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের পার্লামেন্ট নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়েছে।  

শুক্রবার (৮ মে) সকাল থেকে আসতে থাকা ফলাফলে দেখা যায়, লেবার তাদের ঐতিহ্যগত শক্ত ঘাঁটিগুলোতেও পিছিয়ে পড়ছে। বিশেষ করে উত্তর ইংল্যান্ডের কয়েকটি এলাকায় রিফর্ম ইউকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।  

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার নির্বাচনী ধাক্কার পরও নেতৃত্ব ছাড়ার কোনো ইঙ্গিত দেননি। তিনি বলেছেন, জনগণ পরিবর্তনের গতি আরও দ্রুত দেখতে চায় এবং সরকার সেই বার্তা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে।  

অন্যদিকে রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ এই ফলাফলকে “ব্রিটিশ রাজনীতিতে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার দাবি, দেশটির রাজনীতিতে এখন বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস শুরু হয়েছে।  

এবারের নির্বাচনে লন্ডনের বিভিন্ন বরোতেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। বিশেষ করে টাওয়ার হ্যামলেটস, নিউহাম, হ্যাকনি, লিউইশাম ও ক্রয়ডনে মেয়র নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা ছিল চোখে পড়ার মতো। বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসেও ভোটার উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।  

বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন ব্রিটেনের রাজনীতিতে দুই দলের প্রভাব কমে বহুদলীয় বাস্তবতার দিকে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। লেবার ও কনজারভেটিভের বাইরে ছোট দলগুলোর উত্থান এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।  

স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের ফলাফলও জাতীয় রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্কটল্যান্ডে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ভবিষ্যৎ এবং ওয়েলসে নতুন নির্বাচনী ব্যবস্থার কার্যকারিতা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।  

এদিকে ভোট গণনা এখনও চলমান থাকায় চূড়ান্ত ফলাফল ও কাউন্সিলগুলোর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাচ্ছে, তা জানতে আরও কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতে পারে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফল শনিবার পর্যন্ত গড়াতে পারে বলেও জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম।  

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন