হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে আবারও মুখোমুখি অবস্থানে চলে গেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের হামলার জবাবে ইরানের সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে ওমান উপসাগরের দিকে যাওয়ার সময় মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর ওপর “উসকানিবিহীন” হামলা চালানো হয়। এরপর আত্মরক্ষার্থে পাল্টা হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।
মার্কিন বাহিনীর দাবি, ইউএসএস ট্রাক্সটন, ইউএসএস রাফায়েল পেরাল্টা এবং ইউএসএস ম্যাসন নামের তিনটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারকে লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযান ব্যবহার করে হামলার চেষ্টা চালায় ইরানি বাহিনী। তবে কোনো মার্কিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানিয়েছে সেন্ট্রাল কমান্ড।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল স্থাপনা এবং গোয়েন্দা নজরদারি কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে একইসঙ্গে ওয়াশিংটন দাবি করেছে, তারা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করতে চায় না। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, “আমরা সংঘাত বৃদ্ধি চাই না, তবে মার্কিন বাহিনীকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় অবস্থানে রয়েছি।”
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে “শত্রুপক্ষের” সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। একইসঙ্গে বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ এবং রাজধানী তেহরানের আশপাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলেও জানিয়েছে আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি।
ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কোরের নৌবাহিনী দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা অভিযোগ করে, জাস্ক বন্দরের কাছে একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
আইআরজিসি দাবি করেছে, জবাবে তারা “বিস্ফোরক ওয়ারহেড” ব্যবহার করে পাল্টা আঘাত হেনেছে এবং এতে মার্কিন বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ দাবি অস্বীকার করেছে।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদক জানিয়েছেন, বন্দর আব্বাস এলাকায় মার্কিন হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
গত ৭ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর এটিই সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর আগে সোমবারও যুক্তরাষ্ট্রের “প্রজেক্ট ফ্রিডম” অভিযানের অংশ হিসেবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার রাতে এবিসি নিউজকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় দাবি করেন, যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর রয়েছে। হামলার ঘটনাকে তিনি “লাভ ট্যাপ” বা সীমিত মাত্রার আঘাত বলে উল্লেখ করেন।
বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান এই উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক বাজারেও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাধারণ সময়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন