বিশ্ব

আলাস্কায় ভয়াবহ ‘মেগা সুনামি’, ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঢেউয়ের রেকর্ড

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬ ০৩:৩৮

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় গত বছর ভয়াবহ একটি ‘মেগা সুনামি’ আঘাত হেনেছিল, যা ইতিহাসে রেকর্ড হওয়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সুনামি বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। পাহাড় ধসে বিপুল পরিমাণ পাথর সাগরে পড়ে এই বিশাল ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের আগস্টে আলাস্কার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ট্রেসি আর্ম ফিয়র্ড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পাহাড়ের বিশাল অংশ ভেঙে সাগরে পড়ে যাওয়ার পর প্রায় ৪৮২ মিটার উঁচু ঢেউ তৈরি হয়।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ ঘনমিটার পাথর এক মিনিটেরও কম সময়ে পানিতে পড়ে যায়। এর শক্তিতেই তৈরি হয় এই বিশাল সুনামি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়টা গভীর রাত হওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে। কারণ ওই এলাকায় প্রায়ই পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করে।

আলাস্কার ভূতত্ত্ববিদ ব্রেটউড হিগম্যান বলেন, “এটি খুব অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়ার ঘটনা। ভবিষ্যতে হয়তো আমরা এতটা ভাগ্যবান নাও হতে পারি।”

গবেষণায় বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ দ্রুত গলছে। আগে হিমবাহ পাহাড়ের বিশাল অংশকে ধরে রাখত। কিন্তু বরফ গলে যাওয়ায় পাহাড়ের নিচের অংশ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ধসের ঝুঁকি বাড়ছে।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষক স্টিফেন হিকস বলেন, হিমবাহ সরে যাওয়ার পর পাহাড়ের নিচের অংশ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে, যার ফলে বিশাল পাথরের স্তর হঠাৎ ভেঙে সাগরে পড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘মেগা সুনামি’ সাধারণ সুনামির মতো নয়। সাধারণত ভূমিকম্প থেকে সুনামি তৈরি হয় এবং তা হাজার হাজার কিলোমিটার ছড়িয়ে যেতে পারে। কিন্তু মেগা সুনামি হয় পাহাড় ধস বা বড় পাথর পানিতে পড়ার কারণে।

এ ধরনের ঢেউ সাধারণত নির্দিষ্ট এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে এর শক্তি অত্যন্ত ভয়াবহ হয়।

এর আগে ১৯৫৮ সালে আলাস্কার লিটুয়া উপসাগরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মেগা সুনামি রেকর্ড করা হয়েছিল। সেই ঢেউয়ের উচ্চতা ছিল ৫২৪ মিটার। এবারের ঘটনাটি ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয় আরও বাড়তে পারে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, কয়েক দশক আগের তুলনায় এখন মেগা সুনামির ঝুঁকি প্রায় ১০ গুণ বেড়েছে।

এদিকে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে কয়েকটি পর্যটন কোম্পানি ইতোমধ্যে ট্রেসি আর্ম এলাকায় জাহাজ চলাচল বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা এখন আলাস্কার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে আরও বেশি নজরদারি ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

বিশ্ব থেকে আরো পড়ুন